যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা স্থগিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশিরা
ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে বিশ্ববাসীর অ্যামেরিকান ড্রিম। আর এতে একের পর এক পেরেক ঠুকছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসী ভিসা স্থগিত হলেও সাধারণ ভিসাতে প্রভাব পরবে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ এর সাথে জড়িত দেশের অর্থনীতি।
কিন্তু সম্প্রতি ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা কার্যক্রম স্থগিতের যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছে তাতে মার্কিন মুল্লুকে স্থায়ী হওয়ার আশা অনেকটাই ফিকে হওয়ার পথে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক পারভেজ করিম আব্বাসির মতে এখনই সরকারের উচিত বিষয়টি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা। চ্যানেল 24-কে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, সেটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, ৭৫টি দেশের তালিকায় ভারতের নাম নেই, এমনকি ভিসা বন্ড আরোপের ক্ষেত্রেও ভারত ও পাকিস্তান বাদ পড়েছে। এতে বাংলাদেশের নিজেদের দুর্বলতা খুঁজে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত দেন তিনি।
তবে অবশ্য ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত না ঘাবড়ানোর পরামর্শ দিয়ে মার্কিন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ রাজু মহাজন বলছেন, এর মাধ্যমে জট খুলতে পারে নিয়মিত ভিসাসহ অন্যান্য ভিসার।
রাজু মহাজন বলেন, ভিজিট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা, ইনভেস্টমেন্ট ভিসা, এমপ্লয়মেন্ট বেস যে ভিসাগুলি আছে—যেমন এফওয়ান, ওওয়ান, এলওয়ান, জেওয়ান, বিওয়ান-বিটু—এই ক্যাটাগরির আবেদনগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছর মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ১১ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশিদের কাছ থেকে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।