৭০ বছর পর ফিরছে ঐতিহাসিক মসজিদ

২৮ অক্টোবর ২০২৬ - ০৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
 0
৭০ বছর পর ফিরছে  ঐতিহাসিক মসজিদ

৭০ বছর পর ইস্তাম্বুলে ফিরছে প্রাচীন মসজিদ, শুরু পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ

তুরস্কের ঐতিহাসিক নগরী ইস্তাম্বুলে প্রায় ৭০ বছর আগে ভেঙে ফেলা একটি প্রাচীন মসজিদ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের সারায়বুর্নু এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বোস্তানজিলার তাবহানেসি মসজিদ, যা ইয়েদেকচিলার মসজিদ নামেও পরিচিত, আবারও ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক মানচিত্রে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ফাতিহ পৌরসভা। উসমানীয় আমলের এই স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে শহরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য সংরক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, সুলতান সুলায়মান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের শাসনামলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রাসাদের অসুস্থ উদ্যানকর্মীদের সেবা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে স্থাপনাটির সম্পর্ক ছিল। তোপকাপি প্রাসাদের সমুদ্রপ্রাচীরের বাইরে সারায়বুর্নু ও আহিরকাপির মধ্যবর্তী এলাকায় মসজিদটির অবস্থান ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি স্থানীয় মানুষের নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি উসমানীয় প্রাসাদসংলগ্ন এলাকার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটির অবস্থা জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ১৯৩০-এর দশক থেকেই স্থাপনাটির অবনতি শুরু হয়। পরে ১৯৪০-এর দশকে এর মিনার ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে উপকূলীয় সড়ক নির্মাণ এবং নগর উন্নয়ন প্রকল্পের সময় মসজিদটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্প ইস্তাম্বুলের উপকূলরেখা ও নগরকাঠামোয় বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর ফলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও হারিয়ে যায় ঐতিহাসিক অনেক স্থাপনা।

মসজিদটির আগের অবস্থান শনাক্ত করতে ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, পুরোনো মানচিত্র, নথিপত্র এবং খোদাইচিত্রের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এসব নথিতে স্থাপনাটির অবস্থান ও অতীতের বিভিন্ন চিত্র সংরক্ষিত থাকায় পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সহজ হয়েছে।

ফাতিহ পৌরসভার মেয়র মেহমেত এরগুন তুরান জানিয়েছেন, বোস্তানজিলার তাবহানেসি মসজিদটি ইস্তাম্বুলের সমুদ্রপ্রাচীরের ঠিক বাইরে অবস্থিত একমাত্র মসজিদ ছিল। উস্কুদার থেকে কিংবা সমুদ্রপথে ইস্তাম্বুলে আসার সময় দূর থেকে মসজিদটির মিনার চোখে পড়ত। ফলে এটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, শহরের ঐতিহাসিক দৃশ্যপটেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

মেয়র আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর মসজিদটিকে আবার ইস্তাম্বুলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। ঐতিহাসিক নথিপত্রে মসজিদটির অসংখ্য আলোকচিত্র এবং মানচিত্রে এর অবস্থানের প্রমাণ রয়েছে। এসব উপাদান পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইস্তাম্বুলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো পুনরুদ্ধার করাকে বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে ফাতিহ পৌরসভা। মেয়র মেহমেত এরগুন তুরান জানান, ঐতিহাসিক মসজিদ পুনর্নির্মাণের কাজে তাঁরা সরকারি অর্থ ব্যবহার করেন না; বরং দাতাদের অর্থায়নে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এখন পর্যন্ত আটটি মসজিদের পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং একই ধরনের আরও ১০টি মসজিদ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

প্রায় সাত দশক আগে নগর উন্নয়নের কারণে হারিয়ে যাওয়া এই মসজিদ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় নতুন সংযোজন। এর মাধ্যমে অতীতের স্থাপত্য ও ধর্মীয় ইতিহাসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।