এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জে ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে বাংলাদেশ
এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ। তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইইউও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী। বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে এবং বিনিয়োগের পরিবেশের বাধা দূর করতে সরকারও কাজ করছে আন্তরিকভাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত। আর এই খাতে সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বরাবরই তুঙ্গে। বর্তমানে দেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেক যায় ইউরোপে।
তবে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের পর বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা। রপ্তানি বাণিজ্যে যাতে কোনো বড় ধাক্কা না লাগে, সেজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ করার ব্যাপারে কাজ করছে সরকার, যাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পোশাক খাতের মালিকরা।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “টাইমফ্রেম বলতে পারবো না, আমরা আশা করি যত দ্রুত সম্ভব ইইউর সাথে এফটিএ হয়ে যাবে। কারণ এটা আমাদের জন্য জরুরি। এলডিসি থেকে আমরা গ্র্যাজুয়েটেড হয়ে গেলে আমাদের যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমরা ডিউটি ফ্রি এক্সপোর্ট, ওটা যেন আমরা অব্যাহত রাখতে পারি।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই আগ্রহের বিপরীতে কিছু শর্ত বা উদ্বেগের জায়গাও রয়েছে। বিশেষ করে শ্রম অধিকার, কারখানা কর্মপরিবেশ এবং লজিস্টিক সাপোর্টের উন্নয়ন। তবে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা দূর করাকে।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিন্তু অনেক ধরনের আবার মান্যতা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। যখনই আমরা একটা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে চলে যাব, সেখানে মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ, সেখানে লেবার রাইটস, জেন্ডার রাইটস—বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত যেসব মান্যতা, এগুলো আমাদেরকে কিন্তু নিশ্চিত করতে হবে এবং এই আলাপ-আলোচনাগুলো খুব সহজে হবে না, এটা বেশ দীর্ঘ একটা প্রক্রিয়া।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়ে এ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা গেলে এলডিসি উত্তরণের পরও ইউরোপের বাজারে দেশের তৈরি পোশাকের আধিপত্য বজায় থাকবে।