বেলজিয়ামকে কঠিন সময় দিতে প্রস্তুত মিশরের কোচ
ফিফা বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে গেছে মিশর। তবে এই হারে ভেঙে না পড়ে, বরং নিজেদের শক্তি আর দুর্বলতা পরখ করে নিয়েছেন মিশরীয় কোচ হোসাম হাসান।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের বিশ্বমানের আক্রমণের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়েছে ‘ফারাও’রা। ম্যাচ শেষে কোচ হোসাম হাসান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই লড়াই তাদের গ্রুপ ‘জি’-র কঠিন অভিযানের জন্য দারুণভাবে প্রস্তুত করেছে; যেখানে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ শক্তিশালী বেলজিয়াম।
এদিনের ম্যাচে শুরু থেকেই মিশরীয় রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে সেলেসাওরা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা তারকা রাফিনহার দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্ট থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অলিম্পিক লিওঁ-র তরুণ ফরোয়ার্ড এন্ড্রিক। মিশরের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন জিকো।
তবে হারের মাঝেও মিশরীয় শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর ছিল দলের মহাতারকা ও অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে সালাহ যেভাবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স কাঁপিয়েছেন, তাতে তিনি যে সম্পূর্ণ চূর্ণ-বিচূর্ণ ফর্মে আছেন, তা স্পষ্ট।
সংবাদ সম্মেলনে কোচ হোসাম হাসান দলের ‘কিং ফারাও’ সালাহকে নিয়ে বলেন, সালাহ লিভারপুলের পর জাতীয় দলের মেডিকেল টিমের অধীনে একটি দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। ও এখন শতভাগ ফিট এবং বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই মাঠ কাঁপাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

বেলজিয়াম ম্যাচই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা: সাতবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মিশর এবার তাদের ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নামছে। আগামী ১৫ জুন বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে, যেখানে গ্রুপ ‘জি’-তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হলো নিউজিল্যান্ড এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান।
১৯৯০ বিশ্বকাপে নিজে খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেওয়া বর্তমান মিশরীয় বস হোসাম হাসান গ্রুপ পর্বের এই লড়াইকে ‘চরম প্রতিযোগিতাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে আমাদের উদ্বোধনী ম্যাচটি হবে এই গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এখানে প্রতিটি পয়েন্টের জন্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হবে।
ব্রাজিলের কাছে এই হার প্রসঙ্গে নিজের চিরাচরিত লড়াকু মেজাজে হাসান বলেন, আমি হারতে মোটেও পছন্দ করি না, আর প্রতিপক্ষ দলটা বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্রাজিল হলেও এ হার আমাকে ব্যথিত করেছে। তবে ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, ছেলেদের লড়াকু পারফরম্যান্সে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট।
বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে আমরা বিশ্বের এক নম্বর স্তরের দলের বিরুদ্ধে খেলে নিজেদের আসল রূপটা চিনতে পেরেছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সালাহর জাদুকরী ফর্ম আর হোসাম হাসানের ক্ষুরধার মস্তিস্কে ভর করে মিশর বেলজিয়ামের ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’কে স্তব্ধ করতে পারে কি না, সেটাই দেখার বিষয়!