মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ৭ শতাধিক মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ থালাপতি বিজয়ের

১২ মে ২০২৬ - ০৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
 0
মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ৭ শতাধিক মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ থালাপতি বিজয়ের

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয়। রাজ্যটির ৭ শতাধিক সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ‘মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু’ গড়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় রাজ্যজুড়ে মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশন (টাসম্যাক) পরিচালিত এসব দোকান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করতে হবে। গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে)-এর নেতা ও জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটিই প্রথম বড় সিদ্ধান্ত।

তবে সরকার গঠনের আগে বিজয় ও তার দলকে বেশ নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। টিভিকে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতেছিল। পরে বিজয় দুটি আসনের একটি ছেড়ে দিলে তাদের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে ১০টি কম থাকায় সরকার গঠন নিয়ে এক সপ্তাহের রাজনৈতিক নাটক তৈরি হয়। পরে কংগ্রেস, দুটি বাম দল এবং ছোট আঞ্চলিক দল বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছির সমর্থনে সরকার গঠন নিশ্চিত হয়।

রাজ্য সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ৭১৭টি খুচরা মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।’

বর্তমানে টাসম্যাকের অধীনে রাজ্যে মোট ৪ হাজার ৭৬৫টি মদের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৬টি উপাসনালয়ের কাছে, ১৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি অবস্থিত বলে জানিয়েছে সরকার। টাসম্যাকের মাধ্যমে মদের বিক্রি থেকে বিপুল রাজস্ব আয় হলেও এই সিদ্ধান্তকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুধু ২০২৫ সালেই এই খাত থেকে রাজ্যের আয় হয়েছিল ৪৮ হাজার কোটি রুপির বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ‘নেশামুক্ত তামিলনাড়ু’ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি বিজয় দিয়েছিলেন, এটি তার প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ।

অবশ্য গত এপ্রিলের নির্বাচনের আগে থেকেই টাসম্যাকের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছিল ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি)। গত বছর করপোরেশন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়।

তখন রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগম (ডিএমকে)। ইডির এই অভিযানের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে বিষয়টি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। গত বছরের মে মাসে প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ইডির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালত জানতে চায়, ‘ফেডারেল কাঠামোর কী হবে? রাজ্য সরকারের তদন্তের অধিকার কি আপনারা কেড়ে নিচ্ছেন?’

গত মার্চে ইডি দাবি করে, টাসম্যাকের কার্যক্রমে ‘বহুমাত্রিক অনিয়ম’ পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থাটি আরও দাবি করে, তারা প্রায় এক হাজার কোটি রুপির অঘোষিত অর্থের তথ্য পেয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ, পরিবহন ও বার লাইসেন্সের টেন্ডার এবং কিছু ডিস্টিলারিকে সুবিধা দেয়ার বিষয়ে ‘অভিযোগযোগ্য’ তথ্য মিলেছে।

এছাড়া টাসম্যাক আউটলেটগুলোতে প্রতি বোতলে ১০ থেকে ৩০ রুপি অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে দাবি করে ইডি। এতে টাসম্যাক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। পরে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় আবারও ১০টি স্থানে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় রাজ্যের তৎকালীন আবগারি মন্ত্রী এস মুথুসামি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ইডি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাজ্যের কর্মকর্তাদের হয়রানি করছে। তার দাবি, টাসম্যাক অফিসে অভিযান চালানোর পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে।