শ্রীলঙ্কা থেকে সাঁতরে ভারতে চলে গেলেন ২ ভারতীয়

১২ মে ২০২৬ - ০৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
 0
শ্রীলঙ্কা থেকে সাঁতরে ভারতে চলে গেলেন ২ ভারতীয়

শ্রীলঙ্কা থেকে সাঁতরে ভারতে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছেন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেঙ্গালুরুর এক দম্পতি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত ড্যানিশ আবদি ও বৃশালী প্রসাদে প্রায় ৩২ কিলোমিটার উত্তাল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ভারতে পৌঁছান।এর মাধ্যমে রাম সেতু রুটে শ্রীলঙ্কা থেকে ভারত পর্যন্ত ওপেন-ওয়াটার সাঁতার সম্পন্ন করা প্রথম দম্পতি হয়েছেন তারা। প্রায় ১১ ঘণ্টার এই কঠিন যাত্রায় তারা প্রবল ঢেউ, সাগরের স্রোত ও পরিবর্তনশীল বাতাসের সঙ্গে লড়েছেন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, গত ৭ মে এই দম্পতি পাল্ক প্রণালি পেরিয়ে প্রায় ৩২ কিলোমিটার সাঁতরান। স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীলঙ্কার তালাইমান্নার থেকে যাত্রা শুরু করে তারা বিকেল প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে ভারতের তামিলনাড়ুর ধনুষকোডিতে পৌঁছান। পুরো যাত্রায় সময় লাগে ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।

এই অভিযানের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তাল ঢেউ, দিক পরিবর্তনকারী বাতাস এবং শক্তিশালী সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাদের। কখনও স্রোত তাদের নির্ধারিত পথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছিল।

একটি ভিডিওতে সূর্য ওঠার আগেই অন্ধকার পানিতে ঝাঁপ দেয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় আবদিকে। আরও কয়েকটি ভিডিওতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উত্তাল সাগরে সাঁতার কাটার পর শেষ পর্যন্ত ভারতীয় উপকূলে পৌঁছানোর দৃশ্য উঠে এসেছে।

এছাড়া পুরো অভিযানটি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালিত হয়। সাঁতারুদের সঙ্গে ছিল সহায়ক নৌযান, চিকিৎসাকর্মী এবং ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওর ক্যাপশনে তারা লেখেন, ‘আমরা শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতে সাঁতরে এসে ইতিহাস গড়লাম। এই সাঁতারে আমাদের সব প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির পরীক্ষা হবে, আর আমরা মনে করছি আমরা প্রস্তুত।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের এই অর্জন ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই দম্পতির সহনশীলতা, শৃঙ্খলা ও দলগত সমন্বয়ের প্রশংসা করেছেন। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আবদি ও প্রসাদে দুজনই সফটওয়্যার পেশাজীবী।

জানা গেছে, মাত্র চার বছর আগে তারা গুরুত্বের সঙ্গে সাঁতারের প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। তারা পুরো অভিযানের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যাতে নতুন ক্রীড়াবিদ ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা অনুপ্রাণিত হন।

শ্রীলঙ্কা থেকে ভারত পর্যন্ত কঠিন এই সমুদ্রপথ একসঙ্গে পাড়ি দিয়ে তারা ভারতীয় ওপেন-ওয়াটার সাঁতারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে।