শেষ দিনে রোমাঞ্চের অপেক্ষা, ২৬৮ রানের টার্গেটে নেমে ১ উইকেট নেই পাকিস্তানের
মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে জমে উঠেছে রোমাঞ্চ। বাংলাদেশের দেয়া ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম সেশনেই ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান। চার ওভার ব্যাটিং করে এক উইকেট হারিয়ে ৬ রান তুলেছে সফরকারীরা। ম্যাচ জিততে এখনো তাদের প্রয়োজন ২৬২ রান, আর বাংলাদেশের দরকার আরও ৯ উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ার শুরুতেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই গুড লেংথের বলে খোঁচা মেরে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন ইমাম উল হক। পাঁচ বলে ২ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। মাত্র ৩ রানেই প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান।
এর আগে সকালে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে এগোতে থাকে দল। তবে তৃতীয় ওভারেই হাসান আলির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে হাঁকাতে গিয়ে মিড অফে শান মাসুদের হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। ৩৭ বলে ২২ রান করে থামে তার ইনিংস। দ্রুত রান তোলার যে চেষ্টা, সেটি আর সফল হয়নি অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের।
মুশফিক ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাসও। শাহিন শাহ আফ্রিদির বাউন্সার সামলাতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটার। ২৮ বলে ১১ রান করে ফেরেন তিনি। এর কিছুক্ষণ আগেই অবশ্য নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউয়ের হাত থেকে রিভিউ নিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন লিটন। দেখা যায়, বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাট স্পর্শ করেছিল।
একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই বাঁহাতি দ্বিতীয় ইনিংসেও শতকের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু ৬৮তম ওভারে নোমান আলীর প্রথম বলেই রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে পরাস্ত হন তিনি। বল আঘাত হানে প্যাডে। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি শান্ত। ১৫০ বলে ৮৭ রানের ইনিংস খেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, যেখানে ছিল সাতটি চার।
১৩ রানের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি মিস করায় আক্ষেপ বাড়ল শান্তর। এর আগে টেস্ট ক্যারিয়ারে দুইবার একই ম্যাচের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০২৩ সালে করেছিলেন ১৪৬ ও ১২৪ রান। পরে ২০২৫ সালে গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৪৮ ও ১২৫ রানের দুটি ইনিংস। এবারও সেই কীর্তির খুব কাছে গিয়েও থামতে হলো তাকে।
শান্ত ফেরার পর দ্রুত ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। মেহেদী হাসান মিরাজ নোমান আলীর শততম টেস্ট শিকারে পরিণত হন। ডিফেন্স করতে গিয়ে স্লিপে সালমান আলী আগার হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ২৭ বলে ২৪ রান আসে মিরাজের ব্যাট থেকে। দুই বল পর তাইজুল ইসলামকেও বোল্ড করেন নোমান। সাত বলে ৩ রান করেন এই স্পিনার।
শেষ দিকে ছোট্ট ঝড় তোলেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম ইনিংসেও দ্রুত ২৮ রান করা এই পেসার দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ বলেই এক ছক্কা ও এক চারে করেন ১১ রান। তবে হাসান আলীর শর্ট বলে হাঁকাতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন তিনি।
এরপর আর অপেক্ষা করেনি বাংলাদেশ। ৯ উইকেটে ২৪০ রানেই ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২৬৭ রান। পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি করে উইকেট নেন হাসান আলী ও নোমান আলী।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানি ব্যাটার সালমান আলী আগা বলেছিলেন, দুই সেশন সময় আর ২৫০ রানের মতো লক্ষ্য পেলে তারা জয়ের জন্যই খেলবেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দেওয়া লক্ষ্য সেই সীমার কাছাকাছিই দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, জয়ের পথে এগোতে গিয়ে পাকিস্তান কতটা ঝুঁকি নেয়, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচ নিজেদের দিকে টানতে পারে কি না।