হাতিয়ায় ভোট-পরবর্তী নৃশংসতার অভিযোগ তুলে এনসিপির প্রতিবাদ
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা এলাকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক সহিংসতা ও হামলার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
পরদিন সকালে একই সন্ত্রাসী চক্রের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ভুক্তভোগীর বসতঘরে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে তাকে পুনরায় শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং ঘটনা প্রকাশ করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এমন নির্মমতার পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ অনুপস্থিত। স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ, দায়ীদের গ্রেপ্তার বা নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ এখনো স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়নি— যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত তিন দিনে হাতিয়ায় এনসিপির অন্তত ৫০০ নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শুধুমাত্র নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এনসিপির আরও ১৩ জন আহত কর্মী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকায় সুপরিকল্পিতভাবে ভীতি ও সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে বিরোধী মতের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় ঘোষণার পর, ক্ষমতা গ্রহণের আগেই এ ধরনের সংঘবদ্ধ সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা কোনোভাবেই কম গুরুতর নয়; বরং এটি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে বেশকিছু দাবি জানানো হয়। যেমন- সব ঘটনার অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিচারিক তদন্ত, ধর্ষণ, হামলা, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা জোরদার ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিতকরণ।