মিরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে যা বললেন বাড়ির মালিক
রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জামায়াতের ১৬ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ঘটনার শুরু হয় একটি বাড়িতে জামায়াতের তিনজন নারী কর্মীর ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে।
এদিকে দলের কর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন এখন আর নেই। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে হামলার ঘটনায় আহতদের দেখতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, যুক্তির খাতিরে যদি ধরে নেয়া হয় যে, আমাদের দলের কেউ নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে, তাহলে এর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ আছে। তারা কর্তৃপক্ষকে বলবে। কর্তৃপক্ষ তাদের মতো করে উদ্যোগ নেবে এবং আমাদের সেই ব্যাপারে সম্পৃক্ত করবে। আমাদের কাছে জানতে চাইবে।
তিনি বলেন, আমরা এই নোংরা মবের নিন্দা জানাই এবং আমরা দেখতে চাই মব যেন এখানেই শেষ হয়। মানুষ এখন অনেক সচেতন, মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ। সবাই জনগণের কাছে নিজের বক্তব্য, দলের অঙ্গীরকার ও নিজের আদর্শ নিয়ে যাবে। জনগণ অতীত-বর্তমান বিবেচনা করে ভবিষ্যতে কার ওপর আস্থা রাখবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা আরও জানায়, প্রশ্ন উঠেছে আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা শুরুর আগে এভাবে ভোট চাইতে পারেন কিনা। প্রচার প্রচারণা শুরুর আগেই এভাবে ভোট চাওয়া নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিষয়টি নিয়ে বাড়ির মালিক বলেন, তার স্ত্রী কিচেন রুমে কাজ করছিল। ওই সময় সালাম দিয়ে দরজায় নক করছেন কয়েকজন নারী। এ সময় তার স্ত্রী এসে দরজা খুলল। তখন ওই নারীরা জানতো চাইলো আমরা এখানের ভোটার কিনা। আমরা বলেছি, না এখনাকার ভোটার নয়, আমরা অন্য এলাকার ভোটার। তখন তারা ভোটার আইডি আর ফোন নম্বর চেয়েছে। শফিকুর রহমানের সালাম পৌঁছালো। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করলাম, আপনারা ভোটার আইডি আর ফোন নম্বর চাইতে পারেন কিনা? এটা বলার পর দুইজন নারী দৌড়ে চলে গেছে। আমি ওদের ধরার চেষ্টা করেছি। বলছি, আপনারা দাঁড়ান, আপনারা কারা? তারা বলল, আমরা ভোট চাইতে এসেছি। আমার স্ত্রী তো বাসায় একা থাকে, এভাবে তো অনেক চুরি হয়। ওদের জিজ্ঞেস করলাম ফোন নম্বর দিয়ে কী করবেন, তারা বলল ম্যাসেজ পাঠাবো। পরে ওনারা ফোন দিলো, জামায়াতের কয়েকজন এসেছে।
স্থানীয়রা জানায়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।