প্রচারণার ২ দিন আগে র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত, প্রার্থী-ভোটারদের নিরাপত্তা কোন পর্যায়ে

২১ জানুয়ারি ২০২৬ - ০৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
 0
প্রচারণার ২ দিন আগে র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত, প্রার্থী-ভোটারদের নিরাপত্তা কোন পর্যায়ে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার মাত্র ২ দিন আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও তিন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে। তারা প্রার্থী, ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা কতটুকু দিতে পারছে জনমনে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা ভিশনের উপ-বার্তা প্রধান মোস্তফা কামাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিষয়টি নির্বাচনের সঙ্গে খুবই প্রাসঙ্গিক। তারপর এবার পরিস্থিতিটা ভিন্ন। নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত কাজ, বৈধ অস্ত্রও জমা নেয়া হয়। কিন্তু এবার শুরুর দিকে একটু গোলমাল ছিল। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে চ্যানেল 24 এর মুক্তবাক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মোস্তফা কামাল বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরের দিনই একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো। শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণ। তফসিলের কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। এছাড়া বিচ্ছিন্ন আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটলো। এসব বিষয়ে সবশেষ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যে কথা বলেছেন, এটির মধ্যে হাসির খোরাক আছে। তিনি বলেছেন, থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো নির্বাচনের সময় ব্যবহার হবে না। প্রশ্ন হলো তিনি এ তথ্যটি কীভাবে পেলেন? সমান্তরালে এই প্রশ্নও আসছে, তাহলে তিনি জানেন এ অস্ত্রগুলো কোথায় আছে। এ ধরনের তথ্য দেয়ার কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আছে।’

মোস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা হচ্ছে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু ভোটার এবং যারা ভোট গ্রহণ করবে তাদের নিরাপত্তারও প্রশ্ন আছে। এক পর্যায়ে এখন যোগ হয়ে গেল খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা কতটুকু আছে। চট্টগ্রামের ঘটনা আমাদের মধ্যে ভয় জাগাচ্ছে, উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থী, ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তার নিরাপত্তা কোন পর্যায়ে থাকবে।’ 

তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট দেশের পরিস্থতি উল্লেখযোগ্য ভালো ছিল। তখন পুলিশ ছিল না, কেমনে ভালো থাকলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ভালো থাকার কারণ হলো-ওই সময় জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক ছিল। ঐক্যের একটি বার্তা ছিল। এ ঐক্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শুধু স্বাভাবিক নয়, উন্নত করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক সময় বলেছিল, তাদের পতন হলে কয়েক লাখ নেতাকর্মী হত্যার শিকার হবে কিন্তু ওই পর্যায়ে কোনও অঘটন ঘটেনি।’ 

রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ময়দানে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বক্তব্যের প্রভাব পড়ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থতির ওপর। নেতারা যদি বলতেন, প্রতিযোগিতা হবে, লড়াই হবে কিন্তু শত্রুতা হবে না। তা না করে তারা শব্দ বোমা ছাড়ছেন। কেউ বলছেন, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কেউ বলছেন, প্রশাসন একদিকে হেলে পড়ছে।’