যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা বন্ড নীতির তালিকায় এবার বাংলাদেশ

৭ জানুয়ারি ২০২৬ - ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
 0
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা বন্ড নীতির তালিকায় এবার বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা নীতিতে আরও কঠোরতা আরোপ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে যুক্ত করে মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা আবেদনের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দেয়ার বিধান চালু করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন তালিকাভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই নীতি আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নতুন নীতির আওতায়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যেকোনো নাগরিক যদি পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসা (বি-১/বি-২) পাওয়ার জন্য অন্য সব শর্ত পূরণ করেন, তাহলে ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড দিতে হবে। বন্ডের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ইন্টারভিউয়ের সময় এবং আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে এই অর্থ জমা দিতে হবে।

এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, ভুটান, বতসোয়ানা, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কোট ডি’আইভরি, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি বিসাউ, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সাও তোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

এদিকে, ভেনেজুয়েলাও এই তালিকায় রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে গেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই বন্ড নীতির উদ্দেশ্য মূলত পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করা।

গত জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর অভিবাসন নীতি অনুসরণ করে আসছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাপক হারে অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার, ভিসা ও গ্রিনকার্ড বাতিল, এমনকি অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও অতীত বক্তব্য যাচাইয়ের মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব নীতির বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সমালোচনা করে আসছে এবং বলছে, এতে ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের দাবি, এসব উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার জন্যই নেয়া হয়েছে।