জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন পল কাপুর
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন পল কাপুর। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে দুই জনের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি। সাম্প্রতিক অতীতে বা গত কয়েক বছরে কোনো মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক এমনটি করেননি। ফলে বিষয়টি ঘিরে অনেকের নজর থাকবে।
ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ব্যবসা, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও ভিসাসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার থাকতে পারে। মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সই করা অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি মেনে চলার বার্তা থাকবে নতুন সরকারের প্রতি। এ কারণে চুক্তির আগে এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেছে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর।
বুধবার (৪ মার্চ) দিনব্যাপী সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পল। সফরের শুরুতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে তিনি সচিবালয়ে যাবেন। সেখানে পর্যায়ক্রমে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে অসুস্থ থাকায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে না।
বুধবার সন্ধ্যায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) আয়োজনে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তার সফর উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন পল কাপুর।
সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার পল কাপুর মূলত রাজনৈতিক বৈঠকগুলোতে অংশ নেবেন। দিনের শুরুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং পরে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
ঐদিন দুপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আলোচনা করবেন পল কাপুর। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে পল কাপুরের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় জানান, পল কাপুরের সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা। সফরকালে তিনি নতুন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।