ভারতে ভয়াবহ ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাতে নিহত অন্তত ৩৩
ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের তাণ্ডবে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় গাছ উপড়ে পড়া, ঘরবাড়ি ধসে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ভাদোহি জেলায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে দ্রুত ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
ভাদোহির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কুনওয়ার বিরেন্দ্র কুমার মৌর্য বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়া এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর আসছে। তিনি জানান, ঝড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজে সমস্যা হচ্ছে।
মৌর্য বলেন, জেলার তিনটি তহসিলে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট, তহসিলদার, অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশ ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে এক্সে দেয়া পোস্টে ভাদোহি পুলিশ জানিয়েছে, ধুলিঝড়ে জেলাজুড়ে বিভিন্ন ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৬ জন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ফতেহপুর জেলায় ঝড়সংক্রান্ত ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অবিনাশ ত্রিপাঠী বলেন, ‘খাগা তহসিলে পাঁচ নারীসহ আটজন নিহত হয়েছেন। সদর তহসিলে ঘরের দেয়াল ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ঝড়-সংক্রান্ত ঘটনায় মোট ৯ জনের মৃত্যু এবং ১৬ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বদাউন জেলায় প্রবল ধুলিঝড় ও বৃষ্টির ঘটনায় পৃথক ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই কিশোরীও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। পুলিশ সূত্র জানায়, বিসৌলি থানার সিদ্ধপুর কৈথোলি গ্রামে ঝড়ের সময় একটি কুঁড়েঘরের মাটির দেয়াল ধসে ১০ বছরের মৌসুমি ও ৯ বছরের রাজনির মৃত্যু হয়।
মূলত প্রবল বাতাস শুরু হলে কল্লো ও নেহা নামে দুই নারীর সঙ্গে ওই দুই কিশোরী কুঁড়েঘরটিতে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে দেয়াল ধসে তারা সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। ঘটনাস্থলেই দুই কিশোরীর মৃত্যু হয় এবং দুই নারী গুরুতর আহত হন।
আরেক ঘটনায় ফৈজগঞ্জ বেহতা থানার তারক পারোলি গ্রামে ঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে কয়েকজন একটি টিউবওয়েল কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এ সময় একটি গাছ ঘরের ওপর পড়ে ৪০ বছর বয়সী লক্ষ্মী নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। ঘরটির ছাদ ধসে আরও তিনজন আহত হন। তাদের মধ্যে গীতা নামের এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতে প্রাণহানি, গবাদিপশু ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ত্রাণকাজে অবহেলা সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
একইসঙ্গে যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজস্ব ও কৃষি বিভাগ এবং বীমা কোম্পানিগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শেষ হলেই দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।