৫ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ৫টিতে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র পদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন এপ্রিলের মধ্যেই বাকি ৭টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনেরও প্রার্থী ঘোষণা করার কথা জানায় এনসিপি। সেই সঙ্গে জেলা পর্যায়সহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ৫টি দাবি তুলে ধরে দলটি। দাবিগুলো হলো-
১) আগামী ৬ মাসের মধ্যে সব পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
২) উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ করা যাবে না।
৩) প্রশাসকের পদে বসে কেউ স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না।
৪) লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
৫) দলীয় মার্কা ও মনোনয়ন ছাড়া সংস্কারকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম জানান, আগামী ৬ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা সম্ভব। সে লক্ষ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এ সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেগুলোকে দলীয়করণ করে বিএনপি কুক্ষিগত করে ফেলেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট হবে কিনা, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ সময় বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হলে সেখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, দলীয় প্রশাসকেরা কোনোভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, দলীয় মার্কায় নির্বাচন করা যাবে না। জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে। কারচুপি করা যাবে না। এ সময় আওয়ামী লীগের দোসররা কোনোভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়াও অন্যদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি গণতান্ত্রিক উত্তরণের নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় না গিয়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা দেখাচ্ছে। এটি স্বৈরাচারের পথে হাঁটার নীলনকশা। নিজের পছন্দের মানুষকে নির্বাচিত করার ষড়যন্ত্র। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না দেয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি মনোনীত ৫ মেয়র প্রার্থী ছাড়াও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।