ভিড়, অতিরিক্ত ভাড়া আর সীমাহীন ভোগান্তিতেও ভোটযাত্রীদের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ - ০৮:৪১ পূর্বাহ্ণ
 0
ভিড়, অতিরিক্ত ভাড়া আর সীমাহীন ভোগান্তিতেও ভোটযাত্রীদের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস

সকাল থেকেই ট্রেন স্টেশন, বাস টার্মিনাল আর লঞ্চ ঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। টিকিট পেতে যুদ্ধ, তার ওপর গুণতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া। পথে পথে সীমাহীন ভোগান্তি তো আছেই। কিন্তু এত সব কষ্টও যেন ম্লান হয়ে গেছে বাড়ি ফেরা মানুষের হাসির কাছে। ভিড়, অতিরিক্ত ভাড়া আর সীমাহীন ভোগান্তিতেও ভোটযাত্রীদের চোখেমুখে ছিল কেবলই উচ্ছ্বাসের ছাপ।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ এবং মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ এমনকি তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তবুও এলাকায় গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে এসব কষ্টকে গায়ে মাখছেন না কেউ।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে অপেক্ষায় থাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তারিফুল হক বলেন, বাসের টিকিট পেতে পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। ৬০০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ১২০০ টাকা। কিন্তু অনেক দিন পর দেশে একটা বড় নির্বাচন হচ্ছে, নিজের ভোটটা নিজে দিতে চাই। তাই এই কষ্ট কিছুই না।

একই চিত্র দেখা গেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। পটুয়াখালীগামী যাত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, লঞ্চে ওঠার অবস্থা নেই, বাচ্চার হাত ধরে ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকতে জান বের হয়ে যাচ্ছিল। তবুও বাড়ি যাচ্ছি ভোট দিতে। উৎসবের মতো লাগছে মনে।

এদিন সকাল থেকেই গাবতলী বাস টার্মিনালেও ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। টার্মিনাল সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই যাত্রীরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। পরিবহন শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখর চারপাশ। টার্মিনালে বাসের সংখ্যাও ছিল পর্যাপ্ত।

দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সকালে স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম, প্রবেশপথ ও টিকিট কাউন্টারের সামনে ছিল মানুষের ঢল। 

সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি হলেও কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন। শত শত মানুষ টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ স্ট্যান্ডিং টিকিট পেলেও অনেকে সেটিও পাননি। সরেজমিনে দেখা যায়, আসনের টিকিট আগেই শেষ হয়ে গেলেও যাত্রীচাপ কমেনি। অনেক ট্রেনে ভেতরে দাঁড়ানোরও জায়গা নেই। ঝুঁকি জেনেও অতিরিক্ত যাত্রীদের অনেকে ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখা গেছে। তবে, প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের আগে যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিং, টিকিট এবং ডিজিটাল স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে স্টেশনে ঢোকানো হচ্ছে।

যাত্রী রহমান মাহবুব বলেন, অনেক বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ভোট একটি উৎসবের মতো। এতদিন বঞ্চিত ছিলাম। পরিবর্তন ও দুর্নীতি-অপশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চাই।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সপরিবারে অপেক্ষমাণ মো. খালেক বলেন, শারীরিক অসুস্থতা আর ট্রেনের উপচে পড়া ভিড়ে কষ্ট তো হচ্ছেই। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় আমাদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে। তবুও ত্রয়োদশ নির্বাচন নিয়ে এলাকায় যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তার অংশ হতে চাই। শেষ বয়সে এসে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিতে পারছি, এটাই বড় পাওয়া।

অপরদিকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছিল ছুটির আনন্দ। ভোট উপলক্ষ্যে বাড়ি যেতে কেউ একা, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতেই ট্রেনের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ভিড় ও ভোগান্তির মধ্যেও চোখেমুখে ছিল উৎসবের আমেজ।

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার ঢাকা থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস এবং ২৬টি মেইল ও লোকাল কমিউটার ট্রেন চলাচল করছে। গত তিনদিন ধরেই বাড়তি যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোট উপলক্ষ্যে দীর্ঘ ছুটি থাকায় যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ।