ফিলিপাইনে সাড়ে তিন শতাধিক আরোহী নিয়ে ফেরিডুবি, মৃত অন্তত ১৫

২৬ জানুয়ারি ২০২৬ - ০৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
 0
ফিলিপাইনে সাড়ে তিন শতাধিক আরোহী নিয়ে ফেরিডুবি, মৃত অন্তত ১৫

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে ভয়াবহ এক নৌদুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বাসিলান প্রদেশের উপকূলে সাড়ে তিন শতাধিক আরোহী নিয়ে একটি ফেরি মাঝসমুদ্রে ডুবে যাওয়ার পর  প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতাল ও উদ্ধারকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ডুবে যাওয়া নৌযানটির নাম এমভি ‘ত্রিশা কেরস্টিন ৩’। এটি জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে যাত্রা শুরু করে সুলু প্রদেশের জোলো দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল। ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড জানায়, মধ্যরাতের পর এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সরকারি হিসাবে ফেরিটিতে ৩৩২ জন যাত্রী ও ২৭ জন নাবিক ছিলেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে জাম্বোয়াঙ্গা বন্দর ছাড়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর রাত ১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি বিপৎসংকেত পাঠায়। এরপর বাসিলানের বালুক-বালুক দ্বীপগ্রামের কাছে উপকূল থেকে প্রায় এক নটিক্যাল মাইল দূরে ফেরিটি ডুবে যায়।

ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের সাউদার্ন মিন্দানাও জেলার কমান্ডার রোমেল দুয়া বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা ১৫ জনে পৌঁছেছে এবং এখনও অন্তত ২৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য কোস্ট গার্ডের একটি বিমান পাঠানো হয়েছে। নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীও তাদের সরঞ্জাম ও সদস্য পাঠিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অনেককে বাসিলানের রাজধানী ইসাবেলা শহরের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসাকর্মী রোনালিন পেরেজ বলেন, ‘একসঙ্গে অনেক রোগী চলে আসায় আমাদের বড় চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই মুহূর্তে জনবলও কম।’

বাসিলানের গভর্নর মুজিভ হাতামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসাবেলা বন্দরের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের নৌকা থেকে নামিয়ে আনা হচ্ছে। কেউ থার্মাল কম্বলে মোড়ানো, কাউকে স্ট্রেচারে করে বহন করা হচ্ছে।

গভর্নর হাতামান স্থানীয় রেডিওকে জানান, উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ যাত্রী শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে বেশ কয়েকজন বয়স্ক যাত্রীকে জরুরি চিকিৎসা দিতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যাত্রী তালিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।

ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ভালো আবহাওয়ার মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফেরিটি ছাড়ার আগে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কী কারণে জাহাজটি ডুবে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফিলিপাইনে সাত হাজারের বেশি দ্বীপ রয়েছে। আর তাই এখানে প্রায়ই নৌদুর্ঘটনা ঘটে। ঘন ঘন ঝড়, পুরোনো ও রক্ষণাবেক্ষণহীন জাহাজ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিরাপত্তা বিধির দুর্বল প্রয়োগের কারণে প্রতিবছর বহু মানুষ প্রাণ হারান।

গত শুক্রবারও মিন্দানাও দ্বীপ থেকে চীনের পথে যাওয়া সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে অন্তত দুই নাবিক নিহত হন এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তার এক সপ্তাহ আগেই দাভাও উপকূলে একটি বেসরকারি নৌযান ডুবে ছয়জন মারা যান।

ফিলিপাইনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা ঘটে ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে। তখন একটি জ্বালানি ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষে ‘ডোনা পাজ’ নামের একটি ফেরি ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চার হাজার তিন শতাধিক মানুষ, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।