একনজরে দেশের জাতীয় নির্বাচনের যত তফসিল

১১ ডিসেম্বর ২০২৫ - ০৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
 0
একনজরে দেশের জাতীয় নির্বাচনের যত তফসিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে আজ। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, এমনটিই প্রত্যাশা দেশবাসীর। 

এর আগে, ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। ওই তফসিলে মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। 

‘ডামি নির্বাচন’ হিসেবে খ্যাত ওই নির্বাচনে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশ না নেয়ায় মারাত্মক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল সরকারকে। ফলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের মধ্য থেকে ডামি প্রার্থী রাখার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া দলের ভেতর থেকে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে অনাপত্তি জানানো হয়। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ায় দলের অন্যজন সদস্য দলের মনোনীত প্রার্থীর প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে যান এবং সেখানে অন্যান্য দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। 

২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলের তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। ওই নির্বাচনি তফসিলে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৮ নভেম্বর, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ২ ডিসেম্বর ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ ছিল ৯ ডিসেম্বর। ভোটগ্রহণের তারিখ ছিল ৩০ ডিসেম্বর।  নির্বাচনে দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোটসহ বাংলাদেশের নিবন্ধিত সর্বমোট ৩৯টি দল অংশগ্রহণ করে। ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত পাওয়া ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবেই ২৫৮টি আসনে জয়ী বলে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে।২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। বিরোধী জোট নির্বাচন বর্জন করায় ওই নির্বাচনটি বেশ বিতর্কিত ছিল। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ ২৩৪টি আসনে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করে। নির্বাচনের দিন সহিংসতায় নিহত হয়েছিলের ১৯ জন সাধারণ মানুষ। নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার দিক থেকেও ওই নির্বাচন অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত ৪১ দিনে মারা গেছেন ১২৩ জন। ভোটের দিন এতসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এর আগে দেশে আর দেখা যায়নি।

বাংলাদেশে এর আগেও ৯টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একনজরে দেখে নেয়া যাক সেসব নির্বাচনের তফসিল—

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ওই বছরের ৭ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয় নির্বাচনি তফসিল। ১৯৭৮ সালের ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ভোট হয় পরের বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি। তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ১৯৮৬ সালের ২ মার্চ। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ওই বছরের ৭ মে। চতুর্থ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ১৯৮৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর। ভোট হয় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ।

১৯৯০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পঞ্চম জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় পরের বছর  ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৫৫ দিন পর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি (পুনঃতফসিল) ভোট হয়। ১৯৯৬ সালের ২৭ এপ্রিল সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের ১২ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয় ২০০১ সালের ১৯ অগাস্ট। ৪২ দিন পর ১ অক্টোবর হয় ভোট।

২০০৮ সালের ২ নভেম্বর বহুল আলোচিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। পুনঃতফসিলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর।