টিউলিপ সিদ্দিকের অভিযোগ: ভুয়া এনআইডি ও পাসপোর্ট দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ - ১৮:৫৭ অপরাহ্ণ
 0
টিউলিপ সিদ্দিকের অভিযোগ: ভুয়া এনআইডি ও পাসপোর্ট দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাতে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট ব্যবহার করছে— এমন অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। তার দাবি, এসব নথি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে তাকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণের জন্য।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব কাগজপত্র পাওয়া গেছে, তাতে টিউলিপ সিদ্দিকের নামে একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তবে সেগুলো তার আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে টিউলিপের মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে জানান, প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক স্বার্থে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এবার তারা এমন নথি প্রচার করছে, যা স্পষ্টতই ভুয়া এবং জাল করার একাধিক লক্ষণ বিদ্যমান।

তার দাবি, এসব তথাকথিত নথির সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।

নথিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ২০০১ সালে ১৯ বছর বয়সে টিউলিপ একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়েছিলেন এবং ২০১১ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি আগারগাঁও পাসপোর্ট কার্যালয়ে নবায়নের আবেদন করার কথাও উল্লেখ আছে। তবে টিউলিপের ঘনিষ্ঠজনরা দাবি করেছেন, এসব তথ্য সঠিক নয় এবং এতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, এনআইডির ঠিকানায় ঢাকার একটি বাড়ির উল্লেখ রয়েছে, যা টিউলিপের খালা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালিকানাধীন। অথচ টিউলিপ কখনো ঢাকায় বসবাস করেননি বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও বলা হচ্ছে, কথিত জাতীয় পরিচয়পত্রটি নতুন স্মার্ট কার্ড আকারে নয়। ফলে এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই নথিগুলো বাংলাদেশের একটি চলমান দুর্নীতি মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, টিউলিপ খালার প্রভাব খাটিয়ে তার মা, ভাই ও বোনের জন্য প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। বর্তমানে মামলাটির বিচার তার অনুপস্থিতিতেই চলছে।

টিউলিপের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি কেবল শিশু বয়সে একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েছিলেন। জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্টিফেনসন হারউডও জানিয়েছে, টিউলিপের কোনোদিন বাংলাদেশি এনআইডি বা ভোটার আইডি ছিল না। শৈশবের পর থেকে তার হাতে কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্টও নেই।

উল্লেখ্য, টিউলিপ সিদ্দিকের বাবা-মা দুজনই বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ায় আইনগতভাবে তার দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নানাবিধ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।