‘প্রধান শিক্ষিকা ডেকে নিয়েছিলেন, না হলে হয়তো আমিও আজ লাশ হতাম’
পৌনে দুই বছর ধরে আমি এই কলেজের দায়িত্বে আছি। সাধারণত ছুটির সময় আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকি, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্বপালন দেখি। কিন্তু ওই দিন প্রধান শিক্ষিকা সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকে নিয়েছিলেন। যদি না ডাকতেন, তাহলে হয়তো আমিও আজ লাশ হতাম বলে মন্তব্য করেছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন (অব.) জাহাঙ্গীর খান।
নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
তিনি বলেন, যারা আমাদের ছেড়ে গেছে, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। দুর্ঘটনা যদি স্কুল ছুটির ঠিক ৪-৫ মিনিট পর ঘটত, তাহলে অনেক শিক্ষার্থী হতাহত হতে পারত। স্কুল থেকে বের হতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। আমরা ভাগ্যবান যে আরও বড় ক্ষতি হয়নি।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, যদি কেউ মনে করেন দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা হয়েছে, তবে তার একমাত্র দায় আমার। আপনারা যেকোনো বিচার করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে নিহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জারিফ হাসানের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, সেদিন নাকি ও স্কুলে আসতে চায়নি। ওর মা জোর করেছিল। ও খুব চটপটে আর বন্ধুবৎসল ছিল।
এই ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান বাংলা মাধ্যমের সহকারী শিক্ষক মাসুকা বেগম। সহকর্মীদের মতে, তিনি চাইলে রুম থেকে দৌড়ে বের হতে পারতেন, কিন্তু নিজের দায়িত্ববোধ থেকে ছাত্রদের ফেলে না গিয়ে নিজেই পুড়ে মৃত্যুবরণ করেন।
তার দুলাভাই খলিলুর রহমান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বিমান বিধ্বস্তের খবর শুনেই আমরা মাসুকার খোঁজ নিতে থাকি। পরে ঢাকায় এসে হাসপাতালে তার সন্ধান মেলে।
শোকানুষ্ঠানের শুরুতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার। অনুষ্ঠানের শেষাংশে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নুসরাত আলম।