ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে, দাবি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া চুক্তি ইতোমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও এর আগে দুই পক্ষই জানিয়েছিল, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হবে। এদিকে চুক্তির বিস্তারিত এখনও প্রকাশ না হলেও, এর মধ্যেই তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং বিশ্ববাজারে শেয়ার সূচকে উত্থান দেখা গেছে।
এ সময় ট্রাম্প আরও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হবে না। তার মতে, তেলের দাম কমছে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নিতেও পারেন, নাও পারেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, শুক্রবারের পর কোনও এক সময় ইরান-সংক্রান্ত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হবে।
ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত কোনও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না বলেও জানান তিনি। এছাড়া ট্রাম্পের দাবি, শুক্রবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
পৃথক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে করা সমঝোতা স্মারকে ইতোমধ্যেই স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান বাঘের গালিবাফ। একজন মার্কিন কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন।
তবে এই দাবি সম্পর্কে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে দুই পক্ষের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আগামী শুক্রবার জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চুক্তিতে স্বাক্ষর হবে।
দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার পর সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হলেও এর শর্তাবলি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির শর্ত প্রকাশ করা হতে পারে।
চুক্তির সম্ভাবনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বাধা কমার আশা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম কমে গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে, কিছু সূচক নতুন রেকর্ডও ছুঁয়েছে।
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, আগামী শুক্রবার হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হবে। তবে সোমবার তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যেই জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জাহাজ মালিকদের জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।
দুই পক্ষের বর্ণনা অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হবে এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। এই সময়ের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যতের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জেডি ভ্যান্স সিবিএস নিউজকে বলেন, চুক্তির শর্ত পূরণ করে পারমাণবিক উপকরণ ত্যাগ করলে ইরান শেষ পর্যন্ত ৩০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এই তহবিলের অর্থ আসবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো থেকে।
তবে চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই লেবাননের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পাশাপাশি ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়ে আসছে।
ইরান বলেছে, প্রাথমিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ থাকতে হবে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তির ঘোষণার পর দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষ কিছুটা কমেছে, তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।