রাজধানীতে উচ্ছেদের নামে চলছে পুলিশ-হকারের ইঁদুর-বিড়াল খেলা
উচ্ছেদের নামে পুলিশ-হকারদের ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলছে রাজধানীজুড়ে। টানা অভিযান চললেও ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর কিছুক্ষণ ফুটপাত ফাঁকা থাকলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। হকারদের অভিযোগ, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করলে প্রায় ৫ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পথে বসে যাবেন। অন্যদিকে ডিএমপি বলছে, অভিযান চলমান থাকবে।
গুলিস্তান ও নিউ মার্কেট এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। পুরো রাজধানীজুড়েই এমন অবস্থা বিরাজ করছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে হকারদের পুলিশি গাড়ি দেখলেই দ্রুত জিনিসপত্র নিয়ে সরে যেতে দেখা যায়। কিন্তু গাড়ি চলে গেলে তারা আবারও পণ্য নিয়ে বসে পড়ে।
একজন হকার বলেন, আমরা গরিব মানুষ, ফুটপাতে দোকান দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই, সন্তানদের পড়াশোনা করাই। এর মানে এই না যে আমাদের পেটে লাথি মারা হবে। প্রত্যেক মানুষের বাঁচার অধিকার আছে।
এভাবেই সকাল-সন্ধ্যা চলে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। হকারদের দাবি, পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই তারা এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরেকজন হকার বলেন, আমাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা করে তারপর উচ্ছেদ করা হোক। আমরা গরিব মানুষ, এখন দোকান ভেঙে দিলে আমরা কীভাবে চলব, সন্তানদের কী খাওয়াব? ম্যাজিস্ট্রেটরা জরিমানা করে, দোকানপাট ভেঙে ফেলে দেয়।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে অভিযান শেষে ছবি ও ভিডিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি এবং এই অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি হলেও হকারদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তারা বলেন, হকারদের জীবিকা মূলত এই কেনাবেচার ওপর নির্ভরশীল এবং সাধারণ মানুষও সস্তায় পণ্য কেনার সুযোগ পান। টেকসই সমাধানের জন্য এলাকাভিত্তিক জোনিং করে হকারদের পুনর্বিন্যাস করার সুপারিশ করা হয়েছে।
ঢাকার ব্যস্ততম এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গত মাসের শেষের দিকে ডিএমপির এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।