বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। এ জন্য মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিয়েটি (এমএলএটি) স্বাক্ষর এবং মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট ( এমএলএআর) বিনিময় প্রক্রিয়া চালু করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং–চায়না রয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে চুক্তির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে, বাকি দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন, সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে।
এ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে দেশে প্রায় ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার সম্পদ এবং বিদেশে প্রায় ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। মোট মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।
এ ছাড়া পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি মামলায় চার্জশিট দাখিল এবং ৬টি মামলায় রায় হয়েছে। অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অধীনে স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা।