‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার

২২ এপ্রিল ২০২৬ - ১৮:৫১ অপরাহ্ণ
 0
‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার

‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরা ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, এসব ঘটনার তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে এই প্রশ্নটি করেন নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী।

লিখিত প্রশ্নে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী জানতে চান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ) মন্ত্রী অনুগ্রহ করে বলবেন কি, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনেকেই মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়া ঘুরে ঘুরে অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসালো শিরোনামে প্রচার করেছে। অনেক ক্ষেত্রে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে থাকে। এই প্রেক্ষিতে আপনার মন্ত্রণালয় কী ধরনের প্রতিরোধমূলক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দৃষ্টান্ত রোধে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

জবাবে মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি পাস হওয়া সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০২৬ অনুযায়ী ব্ল্যাকমেইলিং, হুমকি, রিভেঞ্জ পর্ন বা ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী হলে শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে। চাঁদা দাবির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। পাশাপাশি সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম এবং নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার রিয়েল-টাইমে কনটেন্ট শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্রিয় থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, এসব অপরাধের তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে ভিডিও বা কনটেন্টের উৎস ও অপরাধীর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে সংঘটিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।