দিল্লির বিষাক্ত বাতাস: তিন বছরে তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ২ লাখ মানুষ
শীতের আগমনের সঙ্গে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লির বায়ুদূষণ। শহরটির বাতাস এতটাই বিষাক্ত হয়ে উঠেছে যে গত তিন বছরে তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে। দিল্লির ছয়টি সরকারি হাসপাতাল থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও। আর এটিই দিল্লিতে বিষাক্ত বাতাসের জেরে সৃষ্ট সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মূলত দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় দূষিত বাতাস বহু বছর ধরেই বড় সমস্যা, বিশেষ করে শীতকালে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত সীমার ২০ গুণেরও বেশি অবস্থায় রয়েছে।
ভয়াবহ এই দূষণের পেছনে একক কোনও কারণ নেই। শিল্পকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের ধুলা–ধোঁয়া, তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বাতাসের গতি কম থাকা, পাশের রাজ্যগুলোতে ফসলের খড় পোড়ানো— এই সব মিলিয়েই পরিস্থিতি ভয়াবহ খারাপ অবস্থায় চলে যায়।
এমন অবস্থায় দিল্লির ছয়টি প্রধান সরকারি হাসপাতালে ২০২২ সালে তীব্র শ্বাসকষ্টের ৬৭ হাজার ৫৪ জনের, ২০২৩ সালে ৬৯ হাজার ২৯৩ জনের এবং ২০২৪ সালে ৬৮ হাজার ৪১১ জনের তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নথিভুক্ত হয়েছে। ভারতীয় পার্লামেন্টে দেয়া পরিসংখ্যানে মোদি সরকার জানায়, ‘বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে দূষণের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই গবেষণার ভিত্তিতে সরাসরি দূষণের কারণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’
এমনকি গতকাল বুধবার সকালেও দিল্লির গড় একিউআই ছিল প্রায় ৩৮০। এর আগে গত সপ্তাহে বিবিসি জানিয়েছিল, দূষিত বাতাসের কারণে দিল্লি ও আশপাশের বহু হাসপাতালে অসুস্থ শিশুদের ভিড় বাড়ছে।
এমন অবস্থায় বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে বিপজ্জনক বায়ুদূষণ রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানি হয়েছে। গত কয়েক বছরে দিল্লি ও আশপাশের বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও।