বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার আশঙ্কা

১ অক্টোবর ২০২৫ - ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
 0
বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার আশঙ্কা

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী নিম্নচাপ আগামী ১২ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।

বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পরিচালিত জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারও একই পূর্বাভাস দিয়েছে।

তবে গবেষক পলাশ মনে করেন, চলমান মৌসুমি বায়ুর কারণে বঙ্গোপসাগরে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পরিবেশ এখনও পুরোপুরি অনুকূল নয়। তার মতে, নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। তবুও এর প্রভাবে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তবে নাম হবে ‘শক্তি’

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরও জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী (৪৪–৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (>৮৮ মি.মি.) বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় বুধবার সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সাথে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।