পেলে থেকে ম্যারাডোনা, মেসি থেকে রোনালদো, বিশ্বকাপ নিয়ে তাদের ভাবনা
বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়। এটি আবেগ, ইতিহাস আর স্বপ্নের এক অনন্য মিলনমেলা। সময়ের পরতে পরতে এই আসরকে ঘিরে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য গল্প, স্মৃতি আর কিংবদন্তি মুহূর্ত।
ফুটবল বিশ্বের মহানায়কেরা, যারা নিজেদের পায়ের জাদুতে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন, তারাও বিভিন্ন সময়ে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রকাশ করেছেন গভীর অনুভূতি, দর্শন আর অভিজ্ঞতার কথা। তাদের সেই অমূল্য বক্তব্যগুলো আজ শুধু কথামালা নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অক্ষয় দলিল। যেখানে খেলার সৌন্দর্য, সংগ্রাম আর গৌরব একসাথে ধরা পড়েছে।
কিংবদন্তিদের সেসব কথামালা এক নজরে দেখে নেয়া যাক,
‘১৯৫০ সালে ব্রাজিল যখন নকআউট পর্ব থেকে বাদ পরলো তখন প্রথমবারের মতো আমার বাবাকে কাঁদতে দেখি। আমি তখনই তাকে কথা দেই যে আমি তার জন্য ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করব। নিজের দলকে হারতে দেখলে ভেঙে পড়ো না। হয়তো এটা খুব সুন্দর কিছুর শুরু মাত্র।’ - পেলে।
‘ভালো খেলোয়াড় ও বড় মাপের খেলোয়াড় পরিমাপের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হলো বিশ্বকাপ। বড় মাপের খেলোয়াড়দের জন্য এটা পরীক্ষাস্বরূপ।’ -পেলে।
'কিছুটা ম্যারাডোনার হেডে, কিছুটা ঈশ্বরের হাতে। আমি যদি ক্ষমা চাইতে পারতাম এবং পেছনে ফিরে যেতে পারতাম তাহলে আমি ইতিহাস বদলে দিতাম। কিন্তু সেই গোলটি কিন্তু এখনো একটি গোলই। যে গোলে আর্জেন্টিনা হয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আর আমি হয়েছিলাম বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।' -দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা।
‘আসলে আমি সেই সবকিছুই জিতেছিলাম যা আমি জিততে চেয়েছি, অবশ্যই শুধুমাত্র বিশ্বকাপ ট্রফি ছাড়া। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি এটা নিয়ে আফসোস করিনি। কারণ, আমি এমন একটা টিমের অংশ ছিলাম যারা দুইবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে।’ -মিশেল প্লাতিনি।
‘আর্জেন্টিনা আমার দেশ, আমার পরিবার, নিজেকে প্রকাশ করার মাধ্যম। আমি বিশ্বকাপের জন্য আমার সমস্ত রেকর্ডও বাজি ধরবো।’ -লিওনেল মেসি।
'আপনাদের ভালোবাসা আমাকে আরও শক্তিশালী করে, আপনাদের ঘৃণা আমাকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে।' - ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
‘প্রতিটি খেলোয়াড়ই স্বপ্ন দেখে বিশ্বকাপ জেতার এবং খুব কম সংখ্যকই আছে যারা সত্যিকার অর্থে তা করতে পারার মতো ভাগ্যবান হয়।’ -কার্লোস পুয়োল।
‘আমার মতে, ফুটবল অনেক আবেগের তৈরি করে, প্রতিদিনই এক নতুন অনুভূতি। আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন যে আমি অনেক বড় বড় প্রতিযোগিতার অংশ ছিলাম, যেমন- অলিম্পিক এবং বিশ্বকাপ জয় করাটা তো অবিস্মরণীয়। একটা বিষয় তো নিশ্চিত, আমি ছাড়া বিশ্বকাপে দেখার কিছুই নেই।' -জালাতান ইব্রাহিমোভিচ।
‘ব্রাজিল প্রত্যেকটা বিশ্বকাপে জেতার জন্যই যায়। আর যদি বিশ্বকাপটা ব্রাজিলে আয়োজিত হয়, তাহলে প্রত্যাশা আরও বাড়ে। আপনারা ঠিক, আমরা অলিম্পিকে হেরে গিয়েছিলাম কিন্তু বিশ্বকাপ জয় করেছিলাম এবং কোনো অনুভূতিই আমি ভুলব না।’ - রোনালদিনহো।
‘বৃদ্ধ বয়সে আমি আমার নাতি নাতনিদের ঘুমোতে যাওয়ার আগে গল্প শোনার সেই সময়ের যখন আমি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলাম, হয়তো আশা রাখছি) আমি যখন বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যে কথাটা আমি তাদের বলব সেটা হলো, তাদের দাদা/নানা এক সময় লিওনেল মেসির সাথে খেলতো।' -অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া।
‘বুঝতে পারবেন না আমাদের দেশের মানুষের কাছে বিশ্বকাপ ঠিক কি জিনিস। কেবল খেলোয়াড় ও সমর্থকরাই না, দেশের সবাই জানিয়ে দেয় যে তারা আমাদের কাছ থেকে কি প্রত্যাশা করছে। আমাদের প্রেসিডেন্ট, আমাদের রাজনীতিবিদ- সবাই আমাদের বিশ্বকাপ নিয়ে দেশে ফিরতে বলে দেয়।' - রোনালদিনহো
‘আমি ফ্যাব্রিগাসের কাছ থেকে পাসের অপেক্ষায় ছিলাম। সে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আমাকে পাস দিয়েছিল। খুব দ্রুতই দিয়েছিল পাসটা। ওই মুহূর্তে আমি একা ছিলাম। সত্যি ভেবেছিলাম অফসাইড হয়েছি। বলটা দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিই। যখন আমি শট নিই তখন জানতাম বলটি নিশ্চিতভাবেই জালে জড়াচ্ছে।’ -আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।
‘একটা বিষয় তো নিশ্চিত, আমি ছাড়া বিশ্বকাপে দেখার কিছুই নেই।’-জালাতান ইব্রাহিমোভিচ।
‘প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপ আসে। সুতরাং এটা একটা বহু বর্ষজীবি সমস্যা।’ -গ্যারি লিনেকার।