মারাকানার কারিগরের হাতেই তৈরি হচ্ছে হাজারো ‘বিশ্বকাপ’
ব্রাজিলিয়ানদের রক্তে ফুটবল, আর হৃদয়ে বিশ্বকাপের সেই সোনালি ট্রফি। কিন্তু আসল ট্রফিটা সেই ২০০২ সালের পর থেকে আর সেলকাওদের শোকেসে ওঠেনি। উত্তর আমেরিকায় আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আসরকে সামনে রেখে এবার কোমর বেঁধে নেমেছেন রিও ডি জেনেইরোর এক জাদুকরী কারিগর- জারবাস মেনেঘিনি। আসল ট্রফি ব্রাজিল আসুক বা না আসুক, মেনেঘিনির ওয়ার্কশপ থেকে কিন্তু হাজার হাজার ‘বিশ্বকাপ’ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে!

সব কিছুর শুরু ১৯৯৪ সালে। সেবার যখন ব্রাজিল অধিনায়ক ডুনগা ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরলেন, ৫৮ বছর বয়সী মেনেঘিনির মনে জেদ চাপল, এমন একটা ট্রফি তাঁর নিজেরও চাই! কিন্তু বাজারে কোথাও তার হদিস নেই। ব্যাস, নিজের মেটালওয়ার্কের কারিগরি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেই বানিয়ে ফেললেন ট্রফি। এখন সেই শখই রীতিমতো রমরমা ব্যবসা। রিও’র বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামের পাশেই তাঁর কর্মশালা, যেখান থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি প্লাস্টার রেপ্লিকা তৈরি করেছেন তিনি।

মেনেঘিনির ট্রফিগুলো কেবল খেলনা নয়, এক একটি শিল্পকর্ম। ছাঁচে ঢেলে প্লাস্টারের এই ট্রফিগুলোর কোনোটা সোনালি রঙে ঝকঝকে, আবার কোনোটা পালিশ করা ক্রোম ফিনিশড। মেনেঘিনি রসিকতা করে বলেন, ক্রোম করা ট্রফিগুলো একটু বেশি স্পেশাল। যখন আপনি ট্রফিটাতে জয়ের চুমু খাবেন, তখন সেখানে নিজের প্রতিফলনও দেখতে পাবেন! বর্তমানে তাঁর এই হাতের কাজ আমেরিকা ও ইউরোপের ১৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
২২ বছরের খরা কি এবার কাটবে? মেনেঘিনির ট্রফি বিক্রির গ্রাফ কিন্তু বলছে, ব্রাজিলিয়ানদের মনে আশা এবার তুঙ্গে! সাধারণত বিশ্বকাপের আগে যেখানে ১০০-২০০ ট্রফি তৈরি হতো, এবার সেখানে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ৬০০ ট্রফি বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। ১১ জুন মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল মহাযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই ভক্তদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে প্রিয় সোনালি ট্রফির রেপ্লিকা।

মেনেঘিনির বিশ্বাস, এবার ব্রাজিলের ভাগ্য ফিরবে। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রফিহীন থাকার পর ভক্তদের মনে আবারও হেক্সা জয়ের স্বপ্ন দানা বাঁধছে। আসল ট্রফিটা যদি শেষ পর্যন্ত নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের হাতে নাও ওঠে, মেনেঘিনির কল্যাণে ব্রাজিলের হাজারো ঘরে কিন্তু একটা করে সোনালি ট্রফি ঠিকই শোভা পাবে! একেই তো বলে ফুটবলের প্রতি নিখাদ প্রেম!