ঢাকায় ২৭টিসহ সারাদেশে বসবে ৩৬০০-এর বেশি পশুর হাট
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় মোট ২৭টি পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এর বাইরে যত্রতত্র কোনো হাট বসতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কুরবানির পশুর সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা এক কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। অন্যদিকে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে এক কোটি এক লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সেই হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। ফলে কুরবানির পশু নিয়ে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই এবং দেশের উৎপাদন দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, অতীতে কুরবানির সময় বিদেশ থেকে পশু আসায় দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। গত বছর এ বিষয়টি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং এ বছর আরও কঠোরভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো অবৈধ পশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি থাকবে। এ কাজে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে সাদা পোশাকেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। কুরবানির হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে এবং বড় হাটগুলোতে একাধিক টিম রাখা হবে, যাতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
কুরবানির পশু পরিবহনের সময় হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পহেলা মে থেকে চাঁদাবাজি ও রাহাজানির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অনলাইনে পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রেও কোনো খাজনা বা হাসিল নেয়া হবে না।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সতর্কতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কুরবানির হাট থেকে উৎপন্ন বর্জ্য একই দিনেই অপসারণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সহায়তায় আগামী তিন মাস সরকারিভাবে সহযোগিতা দেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।