আজ দেশে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির শঙ্কা, লোডশেডিংয়ের সতর্কতা

২৩ এপ্রিল ২০২৬ - ১৪:৩৭ অপরাহ্ণ
 0
আজ দেশে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির শঙ্কা, লোডশেডিংয়ের সতর্কতা

জ্বালানিসংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দেশে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতিতে সারাদেশে লোডশেডিং কার্যকর করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা এ তথ্য জানান।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকলেও জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে তা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গতকাল মাত্র ৫ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও তাদের মোট সক্ষমতা ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট।

তিনি আরও জানান, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। তবে বাস্তবে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮৫ থেকে ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ায় চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে জ্বালানির সীমাবদ্ধতার কারণে সেই চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও সীমিত রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, আজ সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। তবে উৎপাদন সক্ষমতা থেকে পাওয়া যেতে পারে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এর আগের দিন বুধবারও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা যায়। ওইদিন চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এতে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। দেশের আটটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে আদানির একটি ইউনিট কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। এটি আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে পুনরায় চালু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একইভাবে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে ত্রুটির কারণে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, যা ২৮ এপ্রিলের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। এতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয় করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে কৃষি সেচ কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। তবে ঢাকা শহরকে লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।