সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে, সবকিছুই হয়েছে; সবাই সবকিছু পেয়েছে, সরকার গঠিত হয়েছে, বিরোধী দল হয়েছে কিন্তু আমরা জনগণ সেই সংস্কারটা পাইনি। ফলে সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে এবং নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে; জনগণের কিন্তু বাকি রয়ে গিয়েছে রক্তের দেনা, রক্তের শোধ না হওয়া ঋণ।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ বলেন, আমাদের পহেলা বৈশাখ আমাদের একটি আত্মপরিচয়ের দিন; আমাদের জাতিগত যে আত্মশেকর, সেই শেকর অনুসন্ধানের দিন হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। বঙ্গাব্দ শুরু হয় এই দিনের মধ্য দিয়ে, বৈশাখের এই প্রথম দিনের মধ্য দিয়ে। আমরা আজকের দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংস্কৃতিক সেলের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র আয়োজন করেছি; যেখানে গান উৎসব হচ্ছে, র্যালি হয়েছে, ছোট ছোট দোকান ও স্টল দেয়া হয়েছে। আমাদের যারা শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থক এখানে আসছেন, আপনাদেরকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি বলেন, আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা চাই বৈষম্যহীন যে নতুন দেশের জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে- সেই নতুন বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারব। আমরা আজকের দিনে স্মরণ করছি আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সারথি শরীফ ওসমান হাদীকে, যিনি পহেলা বৈশাখ নববর্ষ অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে উদযাপন করতেন ইনকলাব মঞ্চ থেকে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন যে নববর্ষের এই দিনে, পহেলা বৈশাখে হালখাতা খোলা হয়; যেখানে সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়। আমরা চাই জাতীয় জীবনে আমাদের যত বকেয়া রয়েছে, সেই বকেয়া যাতে পরিশোধ করা হয়- এটা সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে। সেই বকেয়া হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’। গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে, সবকিছুই হয়েছে; সবাই সবকিছু পেয়েছে, সরকার গঠিত হয়েছে, বিরোধী দল হয়েছে কিন্তু আমরা জনগণ সেই সংস্কারটা পাইনি। ফলে সংস্কারের বকেয়া রেখেই সরকার হালখাতা খুলেছে এবং নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে; জনগণের কিন্তু বাকি রয়ে গিয়েছে রক্তের দেনা, রক্তের শোধ না হওয়া ঋণ।
নাহিদ উসলাম বলেন, আজকের দিনে আমাদের কমিটমেন্ট এই যে নতুন বছর শুরু হচ্ছে, এই নতুন বছরে আমরা সেই বকেয়া পরিশোধ করব। জনগণের যে আত্মত্যাগ, তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগ, জুলাইয়ের যে সনদ- সেই সনদকে যারা নানাভাবে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটকে অমান্য করার চেষ্টা করছে, গণভোটকে অশ্রদ্ধা করছে কিংবা গণভোটের রায় মানতে চাচ্ছে না; আমরা তাদেরকে বলতে চাই যে, অচিরেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
নাহিদ উসলাম আরও বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো তারা (বিএনপি) বাতিল করে জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে; আমরা আশা করব দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুনভাবে সেগুলোকে বিল এনে আইনে পরিণত করা হবে। আপনারা অলরেডি দেখেছেন যে মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশনের সব সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। অর্থাৎ, যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা নতুনভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম, সেখানে বাধা আসছে। আমাদের সাংস্কৃতিক জায়গাতেও প্রতিষ্ঠানগুলোর যেমন দলীয়করণ হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফ্যাসিজম প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করা হয়েছিল; একইভাবে আমাদের উৎসব পহেলা বৈশাখকেও দলীয়করণ করা হয়েছিল। এখন কিন্তু আমরা সেই উৎসবগুলোকেও নাগরিক উৎসব হিসেবে উদযাপন করার চেষ্টা করছি।
একইভাবে আমাদের সংস্কারের যে লড়াই, আমাদের সাংস্কৃতিক যে মুক্তির লড়াই- সেটাও চলমান থাকবে। আমরা মনে করি বাংলাদেশ শুধু এ ভূখণ্ডের বাঙালির নয়, পুরো পৃথিবীর সব বাঙালির সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জায়গাটা হচ্ছে এই বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশকেই এই বাংলার সভ্যতার বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে এবং ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসেবে কাজ করে যেতে হবে।