সময় এসেছে, ইনশাআল্লাহ দ্রুতই দেশে ফিরব: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কিছু যৌক্তিক কারণে এতদিন দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি, তবে এখন সময় এসে গেছে। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই দেশে ফিরব।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব বিবিসি বাংলার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেশে ফেরার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনের আগে দেশে ফেরার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমি রাজনীতি করি, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নির্বাচন থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রত্যাশিত নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হবে, তখন আমি অবশ্যই জনগণের পাশে থাকব। আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, ইচ্ছা থাকবে, আগ্রহ থাকবে সেই নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে সরাসরি অংশ নেওয়ার।”
জুলাই মাসের আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে কখনোই এই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে দেখি না। যদিও এই আন্দোলন জুলাই মাসে সফলতা পায়, এর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বহু বছর আগে থেকে।”
তারেক রহমান আরও জানান, এই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্ট মাসের গণআন্দোলনে শুধু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই মাঠে ছিলেন না, মাদ্রাসাছাত্র, গৃহিণী, কৃষক, শ্রমিক, সিএনজি চালক, ছোট দোকানের কর্মচারী ও মালিক, গার্মেন্টস কর্মী এমনকি সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও অংশ নিয়েছিলেন। এটা ছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।”
তিনি উল্লেখ করেন, “অনেক সাংবাদিক, যারা স্বৈরশাসনের দমন-পীড়নে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, তারাও যুক্ত হয়েছিলেন এই আন্দোলনে। কারও অবদানই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই—দলমত নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভাষায়, “এই আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের জনগণের আন্দোলন। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন—তাদের প্রত্যেকেই এই আন্দোলনের নায়ক। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দল নয়, গণতন্ত্রকামী জনগণই ছিল এই আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি।”