নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিলেন জিয়াউল আহসান, লিখিত ব্যবস্থা নেননি ইকবাল করিম ভূঁইয়া
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ জেরায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, নিজের একসময়ের সহকর্মী মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান তার ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ ছিলেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলায় তিনি তৃতীয় দিনের মতো জেরার মুখোমুখি হন সাবেক সেনাপ্রধান। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম ও খুনের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জেরার মুখোমুখি হন সাবেক এই সেনাপ্রধান।
তিনি জানান, সেনাপ্রধান থাকাকালে জিয়াউল আহসান র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন। তাকে অপকর্ম থেকে বিরত রাখতে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ও আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তবে সরাসরি তাকে ডেকে সতর্ক করেননি বলে স্বীকার করেন তিনি।
জেরায় তিনি আরও বলেন, ডিজিএফআই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় সেনাপ্রধানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল না। এমনকি মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের ওপরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। তার দাবি, জিয়াউল আহসানের প্রভাবে ডিএমআই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুলকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বদলি করা হয়।
পদোন্নতি বোর্ডে জিয়াউল আহসানের বিষয়ে কোনো নেতিবাচক তথ্য ছিল কি না, তা তার মনে নেই বলেও জানান তিনি। মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে হাজির করে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী রোববার পরবর্তী জেরা অনুষ্ঠিত হবে।