চিলিতে ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১৮, জরুরি অবস্থা জারি
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে দুই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ও বিপর্যয় পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে সরকার। দাবানলের তাণ্ডবে ইতোমধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং শত শত বাড়িঘর পুড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত দুই অঞ্চলের ৫০ হাজার একর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একযোগে সক্রিয় রয়েছে অন্তত দুই ডজন আগুন। খবর আল জাজিরা ও বিবিসি
চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলেই দাবানলের প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ। রোববারই এই দুই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট বোরিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ‘সব ধরনের সম্পদ প্রস্তুত রাখা হয়েছে’। এই ঘোষণার ফলে সেনাবাহিনীও আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হতে পেরেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো ও লিরকেন শহর থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এই দুই শহরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলভারো এলিজালদে বলেন, আগামী কয়েক দিনে প্রতিকূল আবহাওয়া বিশেষ করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা আগুন নেভানোর কাজ আরও কঠিন করে তুলবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি।’
এদিকে বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। এতে করে ব্যাপকভাবে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫০টি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই দুই অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর (৫০ হাজার একর) এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। প্রবল বাতাস ও গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা আগুনের বিস্তার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
এমন অবস্থায় চিলির বড় একটি অংশে তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী দুই দিনে সান্তিয়াগো থেকে বায়োবিও পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-মধ্য চিলি বারবার ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একযোগে শুরু হওয়া দাবানলে ১৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তখন প্রেসিডেন্ট বোরিক বলেছিলেন, ২০১০ সালের ভূমিকম্পের পর এটিই চিলির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ওই ভূমিকম্পে অন্তত ৫০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন।