খাগড়াছড়ির বলে ভাইরাল ভিডিও আসলে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তের ঘটনা

২২ অক্টোবর ২০২৫ - ১৪:৫১ অপরাহ্ণ
 0
খাগড়াছড়ির বলে ভাইরাল ভিডিও আসলে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তের ঘটনা

খাগড়াছড়িতে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়— মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং স্থানীয়দের ওপর হামলা চালিয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি’র ফ্যাক্ট চেকের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়; এটি আসলে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী একটি মন্দির এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থার দৃশ্য।

ভিডিওটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর, ফেসবুকে একটি পোস্টে। সেখানে লেখা ছিল— ‘আরাকান আর্মি মিয়ানমারের নাগরিকদের ধরতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, বাঙালি পরিবারে হামলা চালিয়েছে এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।’ পোস্টটিতে #বান্দরবান_বর্ডার হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়।

তবে অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়, ভিডিওটির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেখা যায়, একই ভিডিও ফুটেজ থাই গণমাধ্যম “দ্য নেশন” ১৫ জুলাই প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনাটি দুই দেশের সীমান্তবর্তী খেমার মন্দির এলাকায় ঘটে, যেখানে থাই ও কম্বোডিয়ান সেনারা মুখোমুখি অবস্থায় ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, মে মাস থেকে সীমান্ত মন্দিরগুলো ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং জুলাই মাসে সংঘর্ষে অন্তত ৪৩ জন নিহততিন লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। পরে মধ্য জুলাইয়ে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চুক্তিতে পৌঁছায়।

এএফপি যাচাইয়ে আরও দেখা গেছে, বিতর্কিত ভিডিওতে থাকা সেনারা থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সামরিক পোশাক পরিহিত ছিলেন এবং তাদের কথোপকথন খমের ভাষায়। এমনকি এএফপির এক ফটোগ্রাফার মার্চ মাসে একই স্থানে তোলা ছবিতেও একই ধরণের পোশাক ও পরিবেশ ধরা পড়েছে।

ফলে নিশ্চিতভাবে বলা যায়— ভাইরাল ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত এলাকা বা আরাকান আর্মির হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এটি থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়ার সীমান্তের পুরনো একটি দৃশ্য, যা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।