টেকনাফে একের পর এক অপহরণের নেপথ্যে আরাকান আর্মি

৩ অক্টোবর ২০২৫ - ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
 0
টেকনাফে একের পর এক অপহরণের নেপথ্যে আরাকান আর্মি

কক্সবাজারের টেকনাফের নদী ও সাগরপাড় যেন এখন অপহরণের আতঙ্কে আবৃত। মাছ ধরতে গিয়ে বারবার নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন জেলেরা। গত নয় মাসে এমন ২২৮ জনকে অপহরণের নেপথ্যে উঠে এসেছে মিয়ানমারভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির সক্রিয় ভূমিকা।

নাফ নদী ঘিরে জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রেখেছেন টেকনাফের হাজারো মানুষ। দূর থেকে দেখলে মাছ ধরা আর প্রকৃতির সৌন্দর্য মন কেড়ে নেয়, কিন্তু নদীর ওপারে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর অপরাধচক্রের গল্প।

মাছ ধরতে গিয়ে মাঝেমধ্যে আর ফিরে আসেন না অনেকে। কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও নিখোঁজই থেকে যান।

শাহপরীর দ্বীপের জেলে মাহমুদুল হক জীবিকার তাগিদে বহু বছর ধরে সাগরে মাছ ধরছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অপহরণের শিকার হয়ে ১৭ দিন আরাকান আর্মির বন্দিদশায় ছিলেন তিনি। সেসময় তাকে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবস্থান ও কার্যক্রম সংক্রান্ত নানা সংবেদনশীল তথ্য জানাতে চাপ দেয় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

তিনি বলেন, “ওরা জানতে চাইছিল আমাদের বিজিবি কোথায় কোথায় ডিউটি করে, শাহপরীর দ্বীপে কয়টা ক্যাম্প আছে, এসব তথ্য।”

শুধু মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সংগঠনই নয়, স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রও অপহরণ নাটক সাজিয়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ আছে। মাহমুদুল জানান, “ওরা বলে আমাদের জন্য মাল আনবা, আমরা তোমাদের ইয়াবা দেব। চাল, পেঁয়াজ, মরিচ–সবকিছুরই চাহিদা ওদের।”

এই অপহরণচক্রের কারণে বহু পরিবার আজ নিঃস্ব। পাশের একটি পরিবারের করুণ কাহিনি তারই প্রমাণ—বহুদিন ধরে ওই পরিবারের কর্তা আরাকান আর্মির হাতে বন্দি। একমাত্র সন্তান প্রতিদিন বাবার জন্য আর্তনাদ করছে, কিন্তু পরিবার জানে না তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২২৮ জন জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এদের মধ্যে ৯৫ জন বাঙালি ও ১৩৩ জন রোহিঙ্গা। বিজিবির তৎপরতায় ১২৪ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হলেও ১০৪ জন এখনো সশস্ত্র গোষ্ঠীটির হাতে বন্দি।

বিজিবি জানিয়েছে, অপহৃতদের মধ্যে অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, যাদের বড় একটি অংশ রোহিঙ্গা। এক কর্মকর্তা বলেন, “কিছু জেলে ছদ্মবেশে বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ওপারে গিয়ে কয়েকদিন অবস্থান করছে—এমন ঘটনাও পাওয়া গেছে। প্রান্তিক পর্যায়ের কিছু জেলে আর্থিক প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করছি।”

টেকনাফ সীমান্তে স্থানীয় জেলে ও রোহিঙ্গাদের জড়িত অপরাধ দমন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে।