ইরান নিয়ে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত, জানালেন ট্রাম্প
ইরানকে ঘিরে কয়েক মাসের সংঘাত ও উত্তেজনার পর এবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে বড় অগ্রগতির দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ থামাতে সমঝোতার অধিকাংশ বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে। এখন শুধু বাকি রয়েছে চূড়ান্ত অনুমোদন ও শেষ মুহূর্তের কিছু সমন্বয়। খবর আল জাজিরা
তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘চুক্তির চূড়ান্ত বিষয় ও বিস্তারিত দিকগুলো বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে।’
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ইসলামাবাদ দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আয়োজন করতে পারবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ফোনালাপের পর দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আলোচনায় অগ্রগতিতে আঙ্কারা সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, কোনও সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
অন্যদিকে মিশরের প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে সব পক্ষকে কূটনৈতিক উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি আবার হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তা আপাতত স্থগিত রাখেন। এরপর থেকে কখনও তিনি উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনও বলেছেন চুক্তি খুব কাছাকাছি।
শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় ঢাকা ইরানের একটি ছবিও পোস্ট করেন।
এদিকে পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির শনিবার ইরান সফর শেষ করেছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে সফরটিকে ‘সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে।
তবে তেহরানের কর্মকর্তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। কারণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র দুবার ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছিল।