রামিসা-আসিয়াদের হত্যাকারীরা কোনোভাবেই পার পাবে না: আইনমন্ত্রী

২১ মে ২০২৬ - ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
 0
রামিসা-আসিয়াদের হত্যাকারীরা কোনোভাবেই পার পাবে না: আইনমন্ত্রী

মাগুরার আসিয়া এবং ঢাকার রামিসার ঘটনা মানুষ হিসেবে আমাদের মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এমন অপরাধ কোনোভাবেই আনচ্যালেঞ্জড যেতে দেবো না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসব অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। বৃহস্পতিবার (২০ মে) তিনি এসব কথা বলেন

সম্প্রতি রামিসার বাবার ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করা বক্তব্যের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, রামিসার বাবা যেটা বলেছেন, সেটা উনার জায়গা থেকে উনি অনুভব করেছেন; অমূলক কিছু বলেছেন এটা বলবো না। দেশের বিচার ব্যবস্থায় যে মামলার জট, সেটি নিরসনে আমরা পদক্ষেপ নেবো। রামিসার বাবার যে কষ্টের কথা, সেটি আমাদের সবারই কষ্টের কথা। তিনি বলেন, রামিসার বাবার হতাশার একমাত্র উত্তর হবে যদি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রত্যাশিতভাবে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়। সেটি করতে না পারলে উনার কথাই সত্যি প্রমাণিত হবে।

আসিয়া হত্যা মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার উদাহরণ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, আসিয়ার ক্ষেত্রে আমাদের হাতে যতোটুকু ছিলো, ৭ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম এবং এক মাসের মধ্যে ট্রায়াল শেষ হয়েছিল। এর চেয়ে দ্রুততম সময়ে বিচার করা হলে সে বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

তবে রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের আইনি কাঠামোর জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেথ রেফারেন্সগুলোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের কনফার্মেশন লাগে। রায় দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে নথি হাইকোর্ট ডিভিশনে পাঠানো হয়। কিন্তু হাইকোর্ট ডিভিশনকে পেপারবুক তৈরি করতে হয় বছর (সন) ভিত্তিক। আগের বছরের ডেথ রেফারেন্স শেষ না করে পরের বছরেরটা নেয়া যায় না। আমি মনে করি, এটা এক ধরনের ভুল পদ্ধতি। মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে পেপার বুক নির্ধারণ করা উচিত। তিনি বলেন, বিগত সময়ে বিশেষ অনুমতি নিয়ে দুটি মামলার পেপারবুক আগে করা হয়েছিল, আসিয়ার মামলার ক্ষেত্রেও তেমনটি করার চেষ্টা চলছে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে যা কিছু করা সম্ভব সব কিছু করবো। পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গেও কথা হয়েছে, আমরা এই বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

আদালতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোনো আদালতে বিচার প্রক্রিয়ায় আমরা কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারি না। সুপ্রিম কোর্টে পেপারবুক করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বা এম্বারগো থাকলেও ট্রায়াল কোর্টে তা নেই। আমরা পাবলিক প্রসিকিউটরকে (পিপি) বলতে পারি মামলাটি ফাস্ট ট্র্যাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য, বাকিটা বিচারক দেখবেন।

এ ধরনের অপরাধকে সমাজের জন্য ক্ষতিকর ও ‘ঘুণে ধরা সমাজের লক্ষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আইনমন্ত্রী বলেন, এসব অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে না পারলে সমাজে বাজে মেসেজ যাবে। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য যে কমিটি হয়েছে, সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে—কোনো ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের বিবেচনার তালিকাতেই আসবে না।

তিনি বলেন, এসব মামলার জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজন নেই, নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ ট্রাইব্যুনালেই দ্রুত বিচার সম্ভব। চার্জশিট রেডি করে মামলা যখন ট্রায়ালের জন্য পাঠানো হবে, তখন বিচারক ইচ্ছে করলে প্রতিদিন সাক্ষী নিয়ে মামলাটি দ্রুত শেষ করতে পারবেন। রামিসার ঘটনার বিচার ফাস্ট ট্র্যাকে নিয়ে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।