গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন ইস্যু: কাল ভারতে শুরু হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

২০ মে ২০২৬ - ১৬:২৯ অপরাহ্ণ
 0
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন ইস্যু: কাল ভারতে শুরু হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

কলকাতায় তিনদিনের ভারত-বাংলাদেশ ৯০ তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু হচ্ছে। বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের কলকাতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে যোগ দেবেন ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।  বৈঠক আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) শুরু হয়ে শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত চলবে।

বাংলাদেশের পক্ষে দলের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কবির। এ ছাড়াও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আছেন–পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ। আলোচনায় আরও অংশ নেবেন– দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর-পলিটিক্যাল মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মোহম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।

ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার।

যৌথ নদী কমিশনের এবারের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তার আগে এটাই যৌথ নদী কমিশনের সর্বশেষ বৈঠক।

বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে ফাঁকেই ফারাক্কায় নেমে গঙ্গা নদীর পানি পরিমাপ করবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। পরের দিন শুক্রবার তারা ফিরে আসবেন কলকাতায়। সেখানে শুক্র ও শনিবার একটি অভিজাত হোটেলে হবে বৈঠক।

গঙ্গা নদীর পানিচুক্তি অনুযায়ী পানি প্রবাহ যদি ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে ৩৫ হাজার কিউসেক পাবে। আর অবশিষ্ট অংশ পারে ভারত। আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি প্রবাহ হলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পাবে এবং অবশিষ্ট সম্পূর্ণ অংশ পাবে বাংলাদেশ।

তার আগে চুক্তি নবায়ন না হলে বর্তমান চুক্তি মেনে পানি বণ্টন চালু থাকবে।

তবে চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বিগত আলোচনাগুলোতে কিছু বিষয় নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের দাবি, চুক্তি নবায়নের সময় শুধু গঙ্গার ফরাক্কা পয়েন্টের পানির পরিমাণকে বিবেচনায় নিলে হবে না। ফরাক্কা পয়েন্টের আগে পর্যন্ত গঙ্গার পানির হিসাব ধরে চুক্তি করতে হবে। ঢাকার এমন প্রস্তাবের অর্থ পশ্চিমবঙ্গের আগে ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন অংশে যে পানি সংশ্লিষ্ট রাজ্য খালের সাহায্যে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে সেই পানিকেও হিসাবের মধ্যে নিয়ে গঙ্গার পানি প্রবাহ মাপতে হবে।

অন্যদিকে, ভারত বলছে, বিগত ৩০ বছরে গঙ্গার চারপাশে জনবসতি বেড়ে গিয়েছে। নদীর বহমানতাও কমেছে। এই বাস্তব পরিবর্তনকে বিবেচনায় রেখে ফরাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহকে বিবেচনায় নিতে হবে।

এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি না দিলেও দু’পক্ষই একপ্রকার স্বীকার করে নিয়েছে, গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন সহজ হবে না। পশ্চিমবঙ্গে আবার এমন সময় বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। যারা বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে খুব বেশি স্বাভাবিক সম্পর্কে বিশ্বাস করে না।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক। এমন অবস্থায় কেন্দ্রের পাশপাশি রাজ্যেও একই সরকার ক্ষমতায় থাকায় রাজ্যের বাধা দেয়ার বিষয়টি হয়তো সামনে আসবে না।

গত মাসে দিল্লি সফরে গিয়ে বাংলাদেশের  পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান স্পষ্ট করে গেছেন, গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়নই হবে দু’দেশের সম্পর্কের নতুন সূচনা। সূত্রের খবর, সাউথ ব্লক দুই দেশের সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই পানি চুক্তিকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।