ক্যাম্পাসে ফের আধিপত্যের লড়াই, হুমকিতে শিক্ষার পরিবেশ
গত কয়েক দিনে তিনটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে; যার সূত্রপাত চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে। এর রেশ পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ডাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী জানান, ছাত্র রাজনীতি কেন হয়? মূলত উন্নয়নের জন্য। আমাদের কথা সরকারের কাছে পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু বর্তমানে যে ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে, আধিপত্য বিস্তারের জন্য বা ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। যে কারণে পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মেইন স্ট্রিম রাজনৈতিক দলগুলোর স্টুডেন্ট উইংগুলো আছে, তারা সবাই সহাবস্থানে থাকুক, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকুক।
শিক্ষাবিদদের মতে, ক্যাম্পাস রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। কেননা বর্তমান প্রজন্ম প্রচলিত ধারার ছাত্র রাজনীতি পছন্দ করছে না। শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে না পারলে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শুভ হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ছাত্র রাজনীতির কৌশর পরিবর্তন করতে হবে। তাদের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম ছাত্রদের কল্যাণমুখী হতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা ও জেন-জি এখন অত্যন্ত সচেতন। কোনো নেতিবাচক কৌশল তাদের থাকলে তারা পরাজিত হবে। মূল দলের জন্য সেটি ক্ষতিকর হবে।
আর রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে ভূমিকা রাখা সব দলকে সংযত আচরণ করতে হবে। একই সাথে তারা বলছেন, সরকার ও প্রশাসনকে এসব ঘটনায় নীরব ভূমিকা রাখা যাবে না, কারণ বিভেদ বাড়লে তা আদতে সুবিধা দেবে পতিত শাসকদের।
ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ভিজিটিং ফেলো মোজাহেদুল ইসলাম বলেন, সংঘাত সংহিসতায় রূপ নিলে অবশ্যই আওয়ামী লীগ সেখানে একটি সুযোগ নিতে পারে। গণঅভ্যুত্থানের সময় যখন প্রতিষ্ঠিত সরকার পড়ে যায়, তখনই সামরিক সরকার ক্ষমতা দখলে নেয়। আবার কোনো কোনো জায়গায় দেখেছি বিরোধীদল বা অন্যান্য দল সরকার গঠন করে। ফলে রাজনৈতিক হানাহানি যেকোনো সময় যেকোনো দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ের গ্রাফিতি এখনো মুছে যায়নি, অথচ রাজনৈতিক সতীর্থরা এখন পরস্পর বিরোধী লড়াইয়ের ভূমিকা নিচ্ছে। এটি রাজনীতি ও দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয় বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।