ক্রু উদ্ধারে গিয়ে হামলার মুখে মার্কিন যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার, পুরস্কার ঘোষণা ইরানের
ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর এ ঘোষণার পরপরই ওই ক্রুকে খুঁজতে স্থানীয় অনেক নাগরিকরা যাচ্ছেন দুর্ঘটনাস্থলে। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, কেউ যেন ওই ক্রুর সাথে দুর্ব্যবহার না করে।
এদিকে ওই ক্রুর সন্ধানে ইরানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স। তবে অভিযান চলাকালে ইরানের হামলার মুখে পড়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার।
শুক্রবার ইরান থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে খুজেস্তান প্রদেশের আকাশে এ ধরনের একটি অভিযান চলতে দেখা গেছে। সেখানে অংশ নেয় মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষ অপারেশন দল বা স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা। তারা ডেল্টা ফোর্স বা নেভি সিলের মতো উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানের সময় দুটি হেলিকপ্টারই ইরানের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং একটি হেলিকপ্টার ইরাকি ভূখণ্ডে ফেরার পথে ধোঁয়া ছাড়তে থাকে, কিন্তু সেগুলো নিরাপদে অবতরণ করে।
এর আগে ইরানের হামলায় ভূপাতিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক ক্রুকে উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু অন্যজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশটি মূলত একটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, যা প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। ইরানি কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশেও সাধারণ মানুষকে তল্লাশি চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক বার্তায় জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের অনেক মানুষ পাইলটকে খুঁজতে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে গেছেন। তবে তাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন ওই পাইলট কোনোভাবেই লাঞ্ছিত না হন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের গভর্নর ওই ‘অপরাধী মার্কিন পাইলটকে’ ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ বিলিয়ন তুমান বা প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল ‘এফ-১৫ই’ মডেলের। এ ধরনের যুদ্ধবিমানে সাধারণত একজন পাইলট এবং পেছনে একজন ‘ওয়েপন-সিস্টেম অফিসার’ থাকেন। দুই পাইলটের একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে, তবে দ্বিতীয়জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এদিকে একইদিনে অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি এ-১০ গ্রাউন্ড অ্যাটাক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ইরানে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের একাধিক বিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরাকে বিধ্বস্ত একটি ট্যাঙ্কার বিমান এবং কুয়েতের নিজস্ব বাহিনীর ভুলবশত গুলিতে ভূপাতিত তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান।