খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছেই, যুদ্ধ বন্ধ না হলে আরও বৃদ্ধির শঙ্কা
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর গত মার্চে খাদ্যপণ্যের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অব্যাহত থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এফএও-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেরো বলেন, ‘(মধ্যপ্রাচ্যে) সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে (খাদ্যপণ্যের) মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। মূলত পর্যাপ্ত বৈশ্বিক শস্য সরবরাহের কারণে (দাম) কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিল।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত যদি ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং উৎপাদন ব্যয় উচ্চ অবস্থায় থাকে, তাহলে সামনে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে।
শস্য মূল্য সূচক আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ সারমূল্যের কারণে কম চাষাবাদের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, ধানের দাম ৩ শতাংশ কমেছে। ফসল তোলার সময়কাল এবং আমদানি চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে ধানের দাম কমেছে।
ভোজ্যতেলের দাম প্রায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। চিনির দাম মার্চে ৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বের বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক ব্রাজিল আখ থেকে বেশি ইথানল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকতে পারে, এমন প্রত্যাশাই চিনির মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
অন্য এক প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্ব শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়ে ৩ দশমিক ০৩৬ বিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।