ভাগ্য বদলের স্বপ্নে ১০ লাখ নারী প্রবাসে, সাত বছরে ফিরেছেন অন্তত ৭০ হাজার
ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারান পটুয়াখালীর লিজা আক্তার। বিয়ের পর স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের আশায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন বছর দুই আগে। কিন্তু চারবার হাতবদল ও অমানবিক নির্যাতনের যৌন শিকার হন তিনি। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন তাকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে পাঠায়। বর্তমানে ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তায় তিনি।
লিজা বা রিজিয়ার মতো নারীর সংখ্যা এখন অনেক। গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে নারী অভিবাসীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি হয়রানি ও নিপীড়নসহ নানা সংকট নিয়ে ফেরত এসেছেন অসংখ্য নারী। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি নারী বিদেশে কাজ করছেন। তবে তাদের মধ্যে কতোজন ফিরেছেন তার সঠিক তথ্য নেই। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরেই অন্তত ৭০ হাজার নারী দেশে ফিরে এসেছেন। এদের বেশিরভাগই নিপীড়নের নানা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া অন্তত আটশ নারীর লাশ দেশে এসেছে। এর বাইরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০১২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি নারী মানব পাচারের শিকার হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে কাল ৮ মার্চ পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য 'অধিকার, ন্যায়বিচার, উদ্যোগ সব নারীর জন্য হোক'। এর মানে দেশে থাকা নারীদের যেমন অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে তেমনি প্রবাসে থাকা নারীদেরও অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।