নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে যা বলা আছে সংবিধানে
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত জাতীয় গণভোট। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এখন দেশজুড়ে আলোচনা—কবে এবং কীভাবে গঠিত হচ্ছে নতুন সরকার।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনকে তা দ্রুততম সময়ে ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ করতে হয়। গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই একজন নির্বাচিত ব্যক্তি আইনগতভাবে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে গণ্য হন। ইতোমধ্যে গত শুক্রবার গভীর রাতে নির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্য ও গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
শপথ পাঠ করাবেন যিনি
সাধারণত বিদ্যমান সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর সংসদও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদ শূন্য হয়ে পড়লে সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুটি পথ খোলা আছে—১. রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি (যেমন প্রধান বিচারপতি) শপথ পড়াতে পারেন ও ২. যদি প্রথম তিন দিনের মধ্যে তা সম্ভব না হয়, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়বেন।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বা রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পাঠ করাতে বাধ্য। যদি নির্ধারিত সময়ে শপথ গ্রহণ সম্ভব না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার উক্ত শপথ পাঠ করাবেন, যেন নির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করে সাংসদ হিসেবে গণ্য হন।’
মন্ত্রিসভা গঠন ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া
সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা থাকবে। রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী অন্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেবেন। মন্ত্রিসভার অন্তত নয়-দশমাংশ সদস্য সংসদ সদস্য হতে হবে, বাকি এক-দশমাংশ ‘টেকনোক্র্যাট’ (অনির্বাচিত) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে।
বঙ্গভবনে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতিমধ্যেই নতুন মন্ত্রীদের জন্য দাপ্তরিক প্রস্তুতি ও গাড়ির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুরু করেছে।