সাতক্ষীরায় বিএনপি-ছাত্রদলের ৩০ নেতাকর্মী বহিষ্কার
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেয়ার অভিযোগে সাতক্ষীরায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের ৩০ জন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর মধ্যে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ১৭ জন এবং আশাশুনি উপজেলা বিএনপির ৫ জন নেতাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে এর আগে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের ৮ জন নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাতক্ষীরা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ কাজী আলাউদ্দিনের সুপারিশে এবং সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশের সিদ্ধান্তক্রমে এ বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আজিজুর রহমান পাড়, কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, রতনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শিহাবউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবলু, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কিসমাতুল বারী, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব আলী খান, কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজ গাইন, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার সরকার, মৌতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল কবির, মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আঙ্গুর, ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, তারালী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোনাজাত সানা, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. সফিরউদ্দীন সবুজ, কোষাধ্যক্ষ নুর ইসলাম মিলন, কুশুলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য এস এম হাফিজুর রহমান বাবু এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য শেখ রবিউল ইসলাম।
আশাশুনি উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃতরা হলেন- আশাশুনি বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খায়রুল আহসান, সাবেক সদস্য জুলফিকার আলী জুলি, সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং বুধহাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম।
গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়।
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতারা হলেন- কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু ফরহাদ সাদ্দাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বাপ্পী হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য অলিউর রহমান এবং সদস্য সচিব শেখ পারভেজ ইসলাম। এছাড়া আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. ইয়াসির আরাফাত পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজ হোসেন ও সদস্য সচিব মো. সবুজ হোসেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আবু জাহিদ ডাবলু জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির অনুমোদন করেছেন।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বহিষ্কৃত এসব নেতাকর্মী সদ্য জাতীয় নির্বাহী কমিটি থেকে বহিষ্কৃত বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের ‘ফুটবল’ প্রতীকের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছিলেন।