দিল্লির রাজনীতির মারপ্যাঁচে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ছে
বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে দাঁড় করিয়েছে এক নতুন সমীকরণের মুখোমুখি। রাজনীতির অঙ্গন থেকে শুরু করে খেলার মাঠ—বিভিন্ন ঘটনায় বারবার বাঁক বদলেছে এই সম্পর্ক। তিক্ততার রেশ ছড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশের নানা স্তরে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মারপ্যাঁচে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠছে। তাদের পরামর্শ—কথা ও কাজে দু’দেশকেই আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
ভিসা ও বাণিজ্য সীমিত করা, রাষ্ট্রদূত তলব, দূতাবাস লক্ষ্য করে বিক্ষোভ কিংবা সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ—সম্প্রতি এমন নানা ইস্যুতে দুই দেশই একে অপরের দিকে আঙুল তুলেছে। এর পাশাপাশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদনে উত্তপ্ত রাজনীতির আঁচ গিয়ে লেগেছে খেলার মাঠেও।
ঢাকায় বিশ্বস্ত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি যেমন একটি কারণ, তেমনি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও বাংলাদেশ নিয়ে দেশটির অস্বস্তির বড় কারণ বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক পারভেজ করিম আব্বাসী। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে পূর্ব ভারতে দলটির পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশ ইস্যুকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘোষণা এবং বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর—যখন সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ঠিক তখনই ক্রিকেট নিয়ে ভারতের অবস্থান কি দেশটির বাংলাদেশ ইস্যুতে স্ববিরোধী আচরণের বহিপ্রকাশ?
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক পছন্দ–অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের স্বার্থেই বাংলাদেশ ও ভারতের সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। সে জন্য দু’দেশের দায়িত্বশীল মহলের বক্তব্য ও আচরণে আরও পরিমিতিবোধ জরুরি।
শ্রীরাধা দত্ত বলেন, নতুন যে সরকার আসবে, তার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন জরুরি। অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা যেমন প্রয়োজন নেই, তেমনি শত্রুতাও নয়। প্রতিবেশী হিসেবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এগোতে হবে।
ঢাকায় একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ভবিষ্যতে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক কোন পথে এগিয়ে নেয়—সেদিকেই এখন সবার নজর।