তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের রায় ২০ নভেম্বর

১১ নভেম্বর ২০২৫ - ০৬:৫১ পূর্বাহ্ণ
 0
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের রায় ২০ নভেম্বর

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে দায়ের করা আপিলের রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আগামী ২০ নভেম্বর এই রায় ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে আপিলের দশম দিনের শুনানি শেষে এ তারিখ নির্ধারিত হয়।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের চূড়ান্ত শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় সমাজে এমন আঘাত হেনেছে যা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি নড়বড়ে করে দিয়েছে। এতে সমাজব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, এমনকি মৃত ব্যক্তিকে ভোট দিতে দেখার মতো অবাস্তব ঘটনাও ঘটেছে।”

এর আগে ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ। পরবর্তীতে ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

২১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় আপিলের মূল শুনানি। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫, ৬ নভেম্বর পর্যন্ত টানা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংযোজন করা হয় ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিমউল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এ রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।

পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করে আপিল বিভাগে যান রিট আবেদনকারীরা। ২০০৫ সালে আপিলের অনুমতি মঞ্জুর হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১১ সালের ১০ মে সাত বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয়।

এ রায়ের পর ২০১১ সালের ৩০ জুন সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে। একই বছরের ৩ জুলাই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

তবে সরকারের পরিবর্তনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক — তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। এছাড়া নওগাঁর রানীনগর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন করেন।

এছাড়া গত ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ২৩ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথকভাবে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করেন।