আহত অন্তত ২৪, বিস্ফোরণের কারণ এখনও অজানা
লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ১৩
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ঐতিহাসিক লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ২৪ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর-১ এর বাইরে একটি হিউন্দাই আই২০ মডেলের গাড়িতে। হরিয়ানা নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়িটি মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে পুড়ে যায়, এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি যানবাহনেও আগুন ধরে যায়।
বিস্ফোরণের পরপরই এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর সড়কজুড়ে ছড়িয়ে ছিল মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষায়, “বিস্ফোরণের তীব্রতায় একজনের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আমি নিজের চোখে একজনের হাত পড়ে থাকতে দেখেছি।”
বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনের জানালা ও দরজাও কেঁপে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, শব্দের তীব্রতায় কানে ব্যথা শুরু হয়ে যায়—এমন ভয়াবহ দৃশ্য তারা জীবনে কখনো দেখেননি।
পুলিশ ও ফরেনসিক দল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুরো পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবহিত করেছেন। বিস্ফোরণের কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
এদিকে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই হরিয়ানার ফরিদাবাদে দুটি বাড়ি থেকে প্রায় ৩,০০০ কেজি বিস্ফোরক জব্দ করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল ৩৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ডেটোনেটর ও টাইমার ডিভাইস। এ ঘটনায় জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম) সমর্থক সন্দেহে দুই চিকিৎসক—আদিল রাঠার ও মুজাম্মিল শাকিলকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরো এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ, জয়পুর ও উত্তরাখণ্ডেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছে।