শহিদ হাদির হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিতে ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করলো “অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলন”
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, লন্ডন: শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যে এবং ইন্ডিয়া থেকে প্রত্যাবর্তনে সহায়তাকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ২ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে “অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলন”। সংগঠনের আহবায়ক ও মুখপাত্র হাসনাত আরিয়ান খান শহিদ শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এই বিশাল অংকের পুরস্কারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “অনেকেই আমাদের প্রশ্ন করেন- জুলাই বিপ্লবে আপনারা কী পেলেন? আমি বলি, জুলাই বিপ্লবে আমরা শরীফ ওসমান হাদিকে পেয়েছি। যিনি আজ সমগ্র উপমহাদেশের বিপ্লবীদের কাছে আইকন হয়ে গেছেন। জুলাই বিপ্লবে আমরা শহিদ ওসমান শরীফ হাদির মত এমন অসংখ্য আধিপত্যবাদ বিরোধী, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বিরোধী দেশপ্রেমিক সাহসী তরুণদের পেয়েছি, যারা কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পান না, দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে ভয় পান না। ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেওয়া আমাদের দিল্লি না ঢাকা শ্লোগানটিকে তাঁরা হৃদয়ে ধারণ করেছেন। জুলাই বিপ্লবে তাঁরা দিল্লি না ঢাকা গর্জনে দিল্লির মসনদ কাপিয়ে দিয়েছেন। এরই পথ ধরে একদিন অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলন সফল হবে, আমাদের লালিত স্বপ্ন বান্তবায়িত হবে এবং সমগ্র বাংলা অঞ্চল দিল্লি থেকে মুখ ফিরিয়ে ঢাকামুখী হবে। ঢাকা শুধু বাংলাদেশই না, সমগ্র উপমহাদেশের সবকিছুর কেন্দ্র হবে। আমাদের তরুণরাই এর বাস্তবায়ন করবেন, ইনশাআল্লাহ। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ছি, লড়ে যাবো। যত দিন দেহে প্রাণ আছে, তত দিন আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এ লড়াই লড়বে আর বলবে, আল্লাহ আমাদের দুনিয়াতে শুধু খাওয়া আর ঘুমানোর জন্য পাঠান নাই। দেশের বা মানুষের কাজে না আসলে, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করলে এই জীবনের আহামরি কোন মূল্য নাই। আমরা ইনসাফের একটা রাষ্ট্র কায়েম না করে ক্লান্ত হবো না, ইনশাআল্লাহ।”
হাসনাত আরিয়ান খান আরও বলেন, “শহিদ শরীফ ওসমান হাদি জুলাই বিপ্লব পরবর্তীতে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য অবিচলভাবে লড়ে যাচ্ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছিলেন। সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি ইন্ডিয়া যাতে আধিপত্য বিস্তার না করতে পারে, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। আর এসব কারণেই ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদ আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শহিদ শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন এক অবিচল কণ্ঠ। কিন্তু আমরা পূর্বেও দেখেছি, এই সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে যারাই দাঁড়িয়েছেন, তাদেরকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই পুরনো নীলনকশাই আবারও সক্রিয় হওয়ার শঙ্কা দেখা যাচ্ছে। শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে দিল্লির সম্পৃক্ততা রয়েছে। দিল্লির শাসকেরা ও তাদের অনুগত দাসেরা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। হত্যাকান্ডের পরপরই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর ঘাতক চক্র সীমান্ত পেরিয়ে ইন্ডিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন শিখ ফর জাস্টিস (এসএফজে) এর জেনারেল কাউন্সেল ও খালিস্তান আন্দোলনের নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ইন্ডিয়ার মোদি সরকারের নির্দেশে সংঘটিত হয়েছে এবং এটি সীমান্ত পার হওয়া একটি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে মোদি সরকারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ইন্ডিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (আরএডব্লিউ ) এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িত। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অংশ হিসেবেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকান্ডের ধরন এবং কানাডায় শহিদ হারদীপ সিং নিজ্জরের হত্যার ধরন ও পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে তিনি গভীর মিল খুঁজে পেয়েছেন। ইতোমধ্যে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিশ্বের ৫টি দেশে শিখ সম্প্রদায় বিক্ষোভ করেছে। গত ২৯ ডিসেম্বর, সোমবার ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য তাঁরা ৫৫ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ইন্ডিয়ার নরেন্দ্র মোদি সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।”
এসময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলনের প্রধান আরও বলেন, “শহিদ ওসমান শরীফ হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় না আনা হলে এমন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকবে। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তি শুধু নয়, এ হত্যাকাণ্ডে অর্থের জোগানদাতা, পরিকল্পনাকারী, সহযোগী—সবাইকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। আমরা আমাদের ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচারের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তাই করব। রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার আমরা আদায় করব, ইনশাআল্লাহ। শহিদ শরীফ ওসমান হাদি শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চাইতেন। এটাই হবে ইনসাফ।”
শরীফ ওসমান হাদির হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলন এর পক্ষ থেকে বলা হয়, “এই পুরস্কার ঘোষণার মূল লক্ষ্য হলো- জনসাধারণের সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হত্যাকারীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ায় কার্যকর সহায়তা প্রদান করা, যাতে হত্যাকাণ্ডের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়।” সংগঠনটি মনে করে, এই তথ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ খুনিদের অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করবে, যা পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাহায্য করবে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি), বাদ মাগরিব, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে উক্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা শহিদ শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে ‘শহীদ ওসমান হাদির জন্য ইনসাফ চাই’ শিরোনামে উক্ত প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন “ইনসাফ”।
“ইনসাফ” এর আহবায়ক কবি আহমেদ ময়েজ ও সাপ্তাহিক সুরমা’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মিনহাজুল আলম মামুনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, সৈয়দ আবু জাফর মিসবাহ, সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সাবেক বিচারক ব্যারিস্টার মুহাম্মাদ মুজীবুর রাহমান, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক সুরমা’র প্রধান সম্পাদক কবি ফরীদ আহমেদ রেজা, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আবদুল কাদির সালেহ ও মুহাম্মদ রফিকুল বারী। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সৈয়দ আমিরুল ইসলাম আনা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, কমিউনিটির প্রবীণ নেতা আব্দুল আহাদ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল মেয়রের মিডিয়া অ্যাডভাইজার ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের, সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, সৈয়দপুর শামসিয়া সমিতির সাবেক সভাপতি আহমদ কুতুব, সৈয়দ জামান নাসের, আবুল হাসনাত চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম শাহীন, সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান, সাংবাদিক বদরুজ্জামান বাবুল, সাংবাদিক এনাম চৌধুরী ও জুলাই যোদ্ধা মুহাম্মদ মুর্শেদ এবং অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলন এর আহবায়ক ও মুখপাত্র হাসনাত আরিয়ান খান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “শহিদ শরীফ ওসমান হাদি বলেছিলেন, আমি মারা গেলে যেনো আমার খুনিদের বিচার করা হয়। আমি যেনো বিচারটা পাই। আজ এক মাস হলেও সেই বিচার পাননি শহিদ ওসমান হাদি। আমরা তাঁর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশপন্থী মানুষেরা এই মিলনায়তনে সমবেত হয়েছি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। তাই অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হাদি বলতেন, ‘৫৪ বছরেও আমরা নিজেদের জন্য একটা ইনসাফের রাষ্ট্র বানাইতে পারি নাই। এই সময়টুকুর অবহেলা করলে আগামী ১০০ বছরেও হয়তো এমন সূযোগ আর নাও আসতে পারে। ১৪০০ শহিদের রক্তের ঋণ মেটানো আমাদের দায়।’ এই দায় আমাদের মেটাতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, “স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা এবং কালচারাল ফ্যাসিস্টদের বিস্তার রোধ করাই ছিল হাদির ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের মূল দর্শন। হাদির দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশ—এর মানুষ, ভাষা, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য। প্রচলিত জাতীয়তাবাদ যেখানে প্রায়শই দলীয় রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়, হাদির জাতীয়তাবাদ সেখানে ছিল সাংস্কৃতিক ও নৈতিক। তিনি জাতিকে দেখেছেন একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক সত্তা হিসেবে, কেবল রাষ্ট্রীয় সীমানা বা ক্ষমতার কাঠামো হিসেবে নয়। এখানেই তাঁর ভাবনার সঙ্গে প্রচলিত জাতীয়তাবাদী শক্তির মৌলিক পার্থক্য। ওসমান হাদি ক্ষমতার বদলে পরিচয়, আধিপত্যের বদলে আত্মমর্যাদা এবং শাসনের বদলে অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ওসমান হাদি বিশ্বাস করতেন, সংস্কৃতি কখনোই রাজনীতির বাইরে নয়। শহিদ ওসমান শরীফ হাদির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো গ্রাফিতি আন্দোলন। সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া গ্রাফিতি কেবল শিল্পকর্ম ছিল না; ছিল রাজনৈতিক ভাষ্য। তিনি এমেচার গ্রাফিতিকেও সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন, কারণ তাঁর কাছে এগুলো ছিল জনগণের অবচেতন ভাষা। দেয়াল হয়ে উঠেছিল সংবাদপত্র, আর রং হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের কণ্ঠ। কবিতা, গ্রাফিতি, প্রতীক ও ভাষার ব্যবহার—এসবের মাধ্যমে তিনি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন নির্মাণ করেন, যা সচেতনভাবে রাজনৈতিক, কিন্তু দলীয় সংকীর্ণতায় আবদ্ধ নয়। এই আন্দোলন মানুষকে ভাবতে শেখায়, প্রশ্ন করতে শেখায়। শহিদ শরীফ ওসমান হাদির লেখায় ও বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় বয়ান, মিডিয়ার একচোখা দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণমূলক চরিত্র স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের চিন্তাকেও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শহিদ শরীফ ওসমান হাদি আজ আর কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি একটি চেতনা, একটি প্রশ্ন এবং একটি অসমাপ্ত আন্দোলন। দেশপ্রহরীর নতুন আইকন হিসেবে তিনি আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন—আমরা কীভাবে বাংলাদেশকে ভাববো এবং কার পক্ষে দাঁড়াব, সেই সিদ্ধান্তের আয়না হয়ে।”
অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় ও সহযোগিতায় ছিলেন ‘বালাগঞ্জ প্রতিদিন’ এর প্রধান সম্পাদক ও সাপ্তাহিক সুরমা’র কমিউনিটি নিউজ এডিটর কবি মুহাম্মাদ শরীফুজ্জামান। শহিদ শরীফ ওসমান হাদির কবিতা "আমায় ছিঁড়ে খাও হে শকুন" থেকে আবৃত্তি করেন সাপ্তাহিক সুরমা’র সাহিত্য সম্পাদক ও আবৃত্তি শিল্পী কবি সৈয়দ রুম্মান এবং শহিদ শরীফ ওসমান হাদিকে নিয়ে লেখা স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ফয়সাল আইয়ুব।
অনুষ্ঠান শেষে শহিদ ওসমান শরীফ হাদির মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। এসময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ছাড়াও বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন শহিদ শরীফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশে শোক ও প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে, যার রেশ এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়েছে।