উত্তর কোরিয়ার নতুন আইসিবিএম উন্মোচন, পরমাণু হামলার সক্ষমতায় নতুন মাত্রা
পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম সর্বাধুনিক ও শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘হোয়াসং–২০’ উন্মোচন করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বৃহৎ সামরিক কুচকাওয়াজে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের উপস্থিতিতে নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়।
এই তথ্য প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ, যা উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) আয়োজিত প্যারেডে দীর্ঘ পাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন লঞ্চ যানসহ নানা আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে হোয়াসং–২০ আইসিবিএম, যেটিকে কেসিএনএ বর্ণনা করেছে দেশটির সেনাবাহিনীর ‘সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা’ হিসেবে।
১১-অক্ষবিশিষ্ট এক বৃহৎ ট্রাক লঞ্চারের ওপর স্থাপন করা হোয়াসং–২০ এবারই প্রথম প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটি কার্বন ফাইবার দিয়ে নির্মিত নতুন প্রজন্মের সলিড-ফুয়েল রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছিল। কেসিএনএ জানায়, এই ইঞ্জিন বিশেষভাবে নতুন আইসিবিএমের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং এটি ১,৯৭১ কিলোনিউটন থ্রাস্ট উৎপাদনে সক্ষম, যা উত্তর কোরিয়ার পূর্বের সব রকেট ইঞ্জিনের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।
মার্কিন থিংক ট্যাংক ‘কার্নেগি এন্ডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’-এর বিশ্লেষক অঙ্কিত পাণ্ডে মন্তব্য করেছেন,
“হোয়াসং–২০ হলো উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘ পাল্লার পারমাণবিক হামলা সক্ষমতার শীর্ষ অর্জন। এ বছরের মধ্যেই এটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ দেখা যেতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।