একই দিনে দুই ভোট: ফলাফল তৈরি হবে যেভাবে, কারচুপি কি সম্ভব
বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। একই দিনে দুটি ভোট হওয়ায় ভোটগ্রহণ ও ফল প্রকাশে কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গণনা কক্ষে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সামনে ব্যালট বাক্স খুলে সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট ও গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করা হয়। ছেঁড়া, ভুল সিল দেয়া বা কর্মকর্তার সইবিহীন ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হয়। এরপর প্রতীকভিত্তিক ভোট গণনা করা হবে এবং গণভোটের ব্যালট ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-এই দুই ভাগে আলাদা করে গণনা করা হবে।
কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল নির্দিষ্ট রেজাল্ট শিটে অংকে ও কথায় লেখা হয়। এতে মোট ভোট, বৈধ ও বাতিল ভোট এবং প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব মিলতে হয়। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও এজেন্টদের সইয়ের পর ফলাফলের একাধিক কপি তৈরি করা হয়। একটি কপি কেন্দ্রে টানানো হয়, বাকিগুলো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। খবর বিবিসি বাংলার।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ফলাফল একযোগে কেন্দ্রে ঘোষণা, কন্ট্রোল রুমে মাইকিং এবং ইসির আরএমএস সার্ভারে আপলোড করা হয়। ফলে চাইলেই ফল পরিবর্তন বা কারচুপি করা সহজ নয়। তবে অতীতে কেন্দ্র দখল, এজেন্ট বের করে দেয়া কিংবা ব্যালট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, অনিয়মের প্রমাণ মিললে কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা পুনঃভোটের সুযোগ রয়েছে।
এবার প্রবাসী ভোটার ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালটও গণনায় যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে কেন্দ্র ও পোস্টাল ব্যালটের হিসাব শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবেন।